
গৌরনদী প্রতিনিধি ।।
বরিশাল জেলার আগৈলঝাড়া উপজেলায় মাদক মামলায় গ্রেফতার হওয়া এক আসামি পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর থানায় নেক্কারজনক হামলা করা হয়।গত বৃহস্পতিবার (৯- জুলাই) বিকেল চারটার পর একদল লোক আগৈলঝাড়া থানায় হামলা চালায়। এতে অন্তত ১০ পুলিশ সদস্য গুরুতরভাবে আহত হয়।
আগৈলঝাড়া উপজেলার বাকাল ইউনিয়নের ফুল্লশ্রী গ্রামের সিদ্দিক ফকিরের ছেলে রিয়াজ ফকিরের বিরুদ্ধে একাধিক মাদক ও চুরির মামলায় গতবুধবার রাতে রিয়াজ ফকিরকে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। থানায় নেওয়ার পর রিয়াজ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।পরে কর্তব্যরত চিকিৎসকের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
উল্লেখ্য মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে আগৈলঝাড়া থানা ও পুলিশের উপর অতর্কিত হামলা ও ভাঙচুর চালায় রিয়াজ ফকিরের আত্মীয়-স্বজন, এই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সোশ্যাল মিডিয়া ছড়িয়ে পড়লে, তাৎক্ষণিকভাবে এই হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদসহ হামলার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান সর্বস্তরের জনগণ, সেইসাথে ইলেকট্রনিক, প্রিন্ট ও সোশ্যাল মিডিয়ায় ধারাবাহিকভাবে নিউজ প্রচার করা হয়। এই হামলার ঘটনায় আগৈলঝাড়া থানায় কর্মরত আহত এসআই মো. ওমর ফারুক বাদী হয়ে আগৈলঝাড়া থানায় একটি লিখিত এজাহার দাখিল করেন যার জিডি নং ৩৮৩/ এজাহারে ৪৩-জন আসামীর নাম উল্লেখ করে আর অজ্ঞাতনামা ২০০-৩০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। ঐদিন রাতে ভিডিও ফুটেজে সনাক্ত করে নারী-পুরুষসহ ১৮-জন আসামীকে গ্রেফতার করেন পুলিশ।
এই মামলার এজাহারে দেখা যায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ সংগঠনের বরিশাল জেলা যুবলীগ সদস্য সাগর সেরনিয়াবাত (৪৩) পিতা সোহরাব সেরনিয়াবাত (বাবুল মাস্টার), আগৈলঝাড়া উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আজাদ সেরনিয়াবাত (৩৫) (পিতা অজ্ঞাত), কে আসামি করা হয়।
এবিষয়ে সাগর সেরনিয়াবাত বলেন
বরিশালে ঘটে যাওয়া আলোচিত ও সমালোচিত ঘটনার একাধিক ভিডিও ফুটেজ ও আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদ খানের গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ঘটনার বিবরণ প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও আমি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে মিথ্যা মামলায় এজাহার ভুক্ত ২৪-নং আসামি করা হয়েছে। তবে বর্তমান সময়ে প্রশাসন নিরুপায় আগৈলঝাড়া থানায় হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। সেই সাথে ঘটনার সাথে জড়িত আসামিদের গ্রেফতার করে, আইনের প্রতিষ্ঠা করা হোক এবং এই মিথ্যা মামলা থেকে আমাকে অব্যাহত দেওয়া হোক।
আজাদ সেরনিয়াবাত বলেন, আগৈলঝাড়া থানা পুলিশের উপর হামলার ঘটে যাওয়া ঘটনার ভিডিও দেখে জাতী আজ হতবাক, এই হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ এবং ঘটনার সাথে জড়িত প্রকৃত আসামিদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানাচ্ছি
অত্যন্ত দুঃখের বিষয় এই মামলায় আমাকে ২৫ নং আসামি করা হয়েছে, যেখানে ভিডিও ফুটেজ দিনের আলোর মতো পরিষ্কার এবং জনসম্মুখে এই ঘটনা ঘটেছে, এসময়ে স্থানীয় সাধারণ জনগণ উপস্থিত ও সাক্ষী ছিলেন, তারপরও আমাদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ভাবে ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা দেওয়ায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।