
পিরোজপুরের ইন্দুরকানি (জিয়ানগর) উপজেলায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে অনিয়ম ও স্বচ্ছতার অভাবের অভিযোগ উঠেছে। অর্থবছরের শেষ সময়ে প্রকল্পের বিল উত্তোলনে তৎপরতা বৃদ্ধি পেলেও প্রকল্পগুলোর বাস্তব অগ্রগতি ও কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কাবিটা (নগদ অর্থ) দ্বিতীয় পর্যায়ের আওতায় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে একাধিক উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে পারেরহাট ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে টোগরা মহিলা মাদ্রাসার মাঠ ভরাট ও বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণে ৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। একইভাবে পত্তাশী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে পূর্ব পত্তাশী বটতলা জামে মসজিদ ও মাদ্রাসার মাঠ ভরাট এবং সীমানা প্রাচীর নির্মাণের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২ লাখ ১৫ হাজার টাকা।
এছাড়া বালিপাড়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে পশ্চিম বালিপাড়া এলাকার রাস্তার ভাঙন রোধ ও সংস্কার কাজের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। একই অর্থবছরে কাবিখা (গম) দ্বিতীয় পর্যায়ের আওতায় দক্ষিণ চন্ডিপুর আজিজিয়া মাদ্রাসার পশ্চিম পাশের মাঠ ভরাটের প্রকল্পও বাস্তবায়নের তালিকায় রয়েছে।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পের কাগজপত্রে উল্লেখিত কাজের পরিমাণ ও বরাদ্দের সঙ্গে মাঠপর্যায়ে দৃশ্যমান কাজের মিল পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে কাজের গুণগত মান, বাস্তব অগ্রগতি এবং বরাদ্দ অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন হয়েছে কি না, তা নিয়ে জনমনে সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে।
সচেতন নাগরিকদের মতে, যথাযথ তদারকির অভাবে সরকারি অর্থ ব্যয়ের কাঙ্ক্ষিত সুফল সাধারণ মানুষ পাচ্ছে না। প্রতিবছর উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ এলেও বাস্তবে প্রত্যাশিত উন্নয়নের প্রতিফলন অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় না।
এদিকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন জিআর (গ্রাটুইটাস রিলিফ) বরাদ্দ বণ্টন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রকৃত অসহায় ও ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবর্তে কিছু নামসর্বস্ব বা অকার্যকর প্রতিষ্ঠানকে বরাদ্দ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যার ফলে প্রকৃত উপকারভোগীরা বঞ্চিত হতে পারেন।
স্থানীয় সূত্র আরও দাবি করেছে, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ থেকে ৫ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ ‘অফিস খরচ’ হিসেবে কেটে রাখা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) নির্দেশে অফিস সহায়কের মাধ্যমে ওই অর্থ সংগ্রহ করা হয়। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রমাণ বা সরকারি তদন্তের তথ্য পাওয়া যায়নি।
এসব অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ইন্দুরকানি (জিয়ানগর) উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মিলন তালুকদার। অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য জানার জন্য যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে ইন্দুরকানি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসান হাফিজুর রহমান বলেন, “কোনো প্রকল্পে অনিয়ম করার সুযোগ নেই। সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোনো ধরনের অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে এলাকাবাসী ও সচেতন নাগরিকরা সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, মাঠপর্যায়ে সরেজমিন যাচাই এবং অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।