
নিজস্ব প্রতিবেদক // ঝালকাঠি জেলা ছাত্রদলের আসন্ন কমিটিকে ঘিরে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে রাজপথের লড়াকু সৈনিক ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বের কারণে সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন জননন্দিত ছাত্রনেতা গোলাম রাব্বী।
সংগঠন সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র এবং তৃণমূল নেতাকর্মীদের ভাষ্যমতে, বিগত ১৭ বছর ধরে ফ্যাসিবাদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা, অদম্য সাংগঠনিক দক্ষতা এবং সাধারণ কর্মীদের সাথে নিবিড় ভ্রাতৃত্বের সম্পর্কের কারণে তিনি এখন সাধারণ সম্পাদক পদের শীর্ষ দাবিদার। নেতাকর্মীদের মতে, দুঃসময়ে দলের হাল ধরা এবং ছাত্রলীগের অবর্ণনীয় নির্যাতনের শিকার হয়েও মাঠ না ছাড়া এই নেতা বর্তমানে জেলার ছাত্র রাজনীতির এক আস্থার প্রতীক।
ত্যাগের মহিমায় উজ্জ্বল এক রাজনৈতিক ক্যারিয়ার:
গোলাম রাব্বীর রাজনৈতিক জীবন ত্যাগের এক জ্বলন্ত উদাহরণ। জেলা ছাত্র রাজনীতিতে তার মতো নির্যাতনের শিকার আর কোনো নেতা খুব একটা দৃশ্যমান নয়। গত ১৭টি বছর তিনি নিজ বাড়ি থেকে বিতাড়িত হয়েও জাতীয়তাবাদী আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি। ২০১০ সালে ঝালকাঠি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের অভ্যন্তরে লিচু বাগান (বর্তমান ডিসি পার্ক) এলাকায় ১৭ জন ছাত্রলীগ কর্মীর বর্বরোচিত হামলার শিকার হন তিনি। সেই সশস্ত্র হামলায় তার বাম পায়ে পাঁচটি গভীর ক্ষত (কোপ) সৃষ্টি হয়, যার ফলে দীর্ঘ দুই বছর তিনি পঙ্গু জীবন যাপন করেন। এরপরও অসংখ্যবার হামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, কিন্তু রাজপথ ছাড়েননি।
তৃণমূলের কণ্ঠস্বর:
ঝালকাঠি জেলা ছাত্রদলের বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীদের মতে, বর্তমান প্রেক্ষাপটে সংগঠনকে আরও গতিশীল, শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ করতে গোলাম রাব্বীর মতো অভিজ্ঞ ও মাঠপর্যায়ের নেতার বিকল্প নেই। তারা মনে করেন, নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং দলের দুর্দিনের কান্ডারিদের যথাযথ মূল্যায়নের মাধ্যমেই ছাত্রদলের সাংগঠনিক ভিত্তি আরও মজবুত হবে।
সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী গোলাম রাব্বী বলেন, “আমি পদ-পদবির চেয়ে শহীদ জিয়ার আদর্শ এবং দেশনায়ক তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করতে বেশি বিশ্বাসী। বিগত ১৭ বছর স্বৈরাচারের জেল-জুলুম ও শারীরিক নির্যাতন সহ্য করেও মাঠ ছাড়িনি। দল যদি আমার ত্যাগের মূল্যায়ন করে, তবে ঝালকাঠি জেলা ছাত্রদলকে বাংলাদেশের একটি মডেল ইউনিটে রূপান্তর করব ইনশাআল্লাহ।”
আসন্ন কমিটিতে ত্যাগী ও পরীক্ষিত এই নেতাকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দেখতে পাওয়ার প্রত্যাশা এখন জেলার প্রতিটি স্তরের নেতাকর্মীদের মুখে মুখে।