1. faysal.rakib2020@gmail.com : admin :
  2. thelabpoint2022@gmail.com : Rifat Hossain : Rifat Hossain
নিষেধাজ্ঞা ভেঙেও সুন্দরবনে মাছ শিকার থামছে না - বাংলার কন্ঠস্বর ।। Banglar Konthosor
সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ০২:৩৪ পূর্বাহ্ন
নোটিশ :
বিভিন্ন জেলা,উপজেলা-থানা,পৈারসভা,কলেজ পর্যায় সংবাদকর্মী আবশ্যক । 01711073884

নিষেধাজ্ঞা ভেঙেও সুন্দরবনে মাছ শিকার থামছে না

  • প্রকাশিত : রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২৬
  • ২২ 0 বার সংবাদি দেখেছে

এস. এম. সাইফুল ইসলাম কবির, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার, সুন্দরবন থেকে ফিরে // বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতিপ্রাপ্ত বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনে চলমান তিন মাসের নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও অবৈধভাবে মাছ শিকার থামছে না। জলজ প্রাণীর নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে সরকার বনাঞ্চলে প্রবেশ ও মাছ-কাঁকড়া আহরণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করলেও একের পর এক জেলে ঝুঁকি নিয়ে বনাঞ্চলে প্রবেশ করছেন। বন বিভাগের প্রায় নিয়মিত অভিযানে জেলে আটক ও মাছ ধরার সরঞ্জাম জব্দ হলেও নিষিদ্ধ মৌসুমে অনুপ্রবেশ পুরোপুরি রোধ করা যাচ্ছে না। ফলে প্রশ্ন উঠছে—কেন এত ঝুঁকি নিয়েও জেলেরা সুন্দরবনে ঢুকছেন, আর কীভাবে তারা বনাঞ্চলের ভেতরে পৌঁছে যাচ্ছেন?

এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার (৪ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সুন্দরবনের পশ্চিম বিভাগের কোবাদক ফরেস্ট স্টেশনের বনরক্ষীরা আড়পাঙ্গাশিয়া নদীর টেকের খাল এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাছ শিকারের অভিযোগে পাঁচ জেলেকে আটক করেন। এ সময় তাদের ব্যবহৃত একটি ইঞ্জিনচালিত ট্রলার, নিষিদ্ধ ঘাই জাল এবং মাছ শিকারের বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।

অভিযান পরিচালনা করেন কোবাদক ফরেস্ট স্টেশনের কর্মকর্তা শেখ মো. আনিচুর রহমান। বন বিভাগের দাবি, আটক ব্যক্তিরা নিষিদ্ধ সময়ে বনাঞ্চলে প্রবেশ করে মাছ আহরণ করছিলেন।

আটক জেলেরা হলেন সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার নাপিতখালী গ্রামের সাদ্দাম (৩২), ফরহাদ (২২), আসাদুল (১৯), আমিরুল (২৭) ও আরাফাত (২৪)। বন বিভাগ জানায়, তারা পাঁচজনই আপন ভাই। একই পরিবারের পাঁচ সদস্যের একসঙ্গে আটক হওয়ার ঘটনাটি উপকূলীয় এলাকায় বননির্ভর জীবিকার বাস্তবতাকেও সামনে নিয়ে এসেছে।

সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) এজেডএম হাছানুর রহমান বলেন, নিষিদ্ধ সময়ে মাছ শিকারের অভিযোগে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে তাদের কয়রা উপজেলা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

বন বিভাগ সূত্র জানায়, প্রতিবছর প্রজনন মৌসুমে সুন্দরবনের মাছ, কাঁকড়া ও অন্যান্য জলজ প্রাণীর প্রাকৃতিক বংশবিস্তার নিশ্চিত করতে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বনাঞ্চলে প্রবেশ এবং আহরণ নিষিদ্ধ থাকে। এই সময়ে অভিযান, নৌ টহল ও নজরদারি জোরদার করা হলেও অবৈধ অনুপ্রবেশের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, আইন প্রয়োগের পাশাপাশি উপকূলীয় বননির্ভর মানুষের বিকল্প জীবিকা নিশ্চিত করা, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বনাঞ্চলের প্রবেশপথে আরও কার্যকর নজরদারি গড়ে তোলা না গেলে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন আরও কঠিন হয়ে পড়বে। একই সঙ্গে নিষিদ্ধ সময়ে অবৈধভাবে মাছ আহরণে কারা উৎসাহ বা সহায়তা দিচ্ছে, সে বিষয়েও গভীর অনুসন্ধান প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সুন্দরবন শুধু একটি বন নয়; এটি দেশের উপকূলীয় পরিবেশ, মৎস্যসম্পদ এবং লাখো মানুষের জীবিকার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত একটি জীবন্ত বাস্তুতন্ত্র। তাই প্রজনন মৌসুমে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ করা কেবল আইন প্রয়োগের বিষয় নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এই বিশ্ব ঐতিহ্য সংরক্ষণেরও অন্যতম পূর্বশর্ত।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Comments are closed.

‍এই ক্যাটাগরির ‍আরো সংবাদ
Theme Customized By BreakingNews