
মোঃ ইয়াহিয়া শাকুর, পটুয়াখালী প্রতিনিধি // পটুয়াখালী সদর উপজেলার বদরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল হাই-এর বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, ক্ষমতার অপব্যবহার ও নানা অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের চারজন শিক্ষক ও কর্মচারী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে জেলা প্রশাসক, জেলা শিক্ষা অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রধান শিক্ষক আব্দুল হাই জন্মগ্রহণ করেন ৩১ ডিসেম্বর ১৯৬৪ সালে। বিধি অনুযায়ী ৩০ ডিসেম্বর ২০২৪ সালে তার বয়স ৬০ বছর পূর্ণ হলেও তিনি এখনো চাকরিতে বহাল রয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়, প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদানের পর থেকেই তিনি বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা পরিচয় ও রাজনৈতিক প্রভাব দেখিয়ে শিক্ষক-কর্মচারীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে আসছেন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বেতন, উপবৃত্তি, টিউশন ফিসহ বিভিন্ন তহবিলের অর্থ আত্মসাৎ এবং বিদ্যালয়ের বিভিন্ন উপকরণ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন খাত থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এর মধ্যে অর্ধ-বার্ষিক ও বার্ষিক পরীক্ষার ফি বাবদ মার্কশিট, প্রশংসাপত্র, প্রবেশপত্র ও সার্টিফিকেট প্রদানের নামে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করে ভুয়া ভাউচার দেখিয়ে টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া তিনি বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে কৃত্রিম গ্রুপিং সৃষ্টি করে নিজের পক্ষের শিক্ষকদের দিয়ে বিরোধী মতের শিক্ষকদের হয়রানি করেন বলেও অভিযোগে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মেহেরুন্নেসা লিপি, সহকারী শিক্ষক বসির আহমেদ, মাহামুদা ও মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম অভিযোগ করে জানান, উচ্চতর স্কেল ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে প্রধান শিক্ষক তাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আত্মসাৎ করেন। একই সঙ্গে তাদের কাছ থেকে ব্ল্যাঙ্ক স্ট্যাম্প ও চেক আদায় করা হয়েছে বলেও তারা অভিযোগ করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, রেজুলেশন খাতায় আলোচ্য বিষয় লিপিবদ্ধ না করেই শিক্ষক প্রতিনিধিদের একাধিক স্বাক্ষর নিতে বাধ্য করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী শিক্ষক ও কর্মচারীদের বেতন শিটে প্রতি মাসে স্বাক্ষর নেওয়ার কথা থাকলেও প্রধান শিক্ষকের চাপে একসঙ্গে ১২ মাসের স্বাক্ষর নেওয়া হয়।
এছাড়া প্রধান শিক্ষক নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকেন না এবং শ্রেণিকক্ষে পাঠদানে অংশগ্রহণ করেন না বলেও অভিযোগ রয়েছে। শিক্ষক হাজিরা খাতায় একসঙ্গে একাধিক স্বাক্ষর ও অযৌক্তিক কারণ দেখিয়ে উপস্থিতি দেখানো হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক আব্দুল হাইয়ের বক্তব্য জানার জন্য তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।