
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, হত্যাকাণ্ডে জড়িত তার আপন খালু আল-আমীন।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের ঘুটাবাছা খাল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করেন স্থানীয়রা। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। হত্যার রহস্য উদঘাটনে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিহত রাইয়ানের চাচাতো দাদা নূরমোহাম্মদ কালবেলাকে বলেন, নিখোঁজের পর থেকেই বিভিন্ন স্থানে শিশুটিকে খুঁজছিলেন পরিবারের সদস্যরা। শনিবার সকাল থেকে নৌকা নিয়ে বাড়ির পেছনের খালে তল্লাশি চালাচ্ছিলেন রাইয়ানের মামা। একপর্যায়ে খালে কালো রঙের একটি ব্যাগ ভাসতে দেখেন তিনি। ব্যাগটির ওপর মাছি উড়তে দেখে সন্দেহ হলে সেটি তুলে খোলেন। এ সময় ব্যাগ থেকে রক্ত বেরিয়ে আসে।
স্থানীয়রা জানান, ব্যাগটি তীরে তোলার পর সামান্য বাঁধন খুলতেই শিশুটির পা বেরিয়ে আসে। চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে পচা দুর্গন্ধ। শিশুটির মাথা তখনো ব্যাগের ভেতরে ছিল।
নিহতের পরিবারের দাবি, এ হত্যাকাণ্ডে রাইয়ানের আপন খালু আল-আমীন জড়িত। ঘটনার দিন ভোরে তাকে গামছা পরা অবস্থায় দেখা গেছে বলেও দাবি করেছেন স্বজনেরা। তবে অভিযোগের সত্যতা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কলাপাড়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. তালেব কালবেলাকে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসেছে। হত্যার কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। ইতোমধ্যে সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিটকে জানানো হয়েছে। তারা ঘটনাস্থলে এসে আলামত সংগ্রহ করবে। মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
গত ১৫ অক্টোবর নিজ বাড়িতে বাবা রাসেল খানের সঙ্গে একই বিছানায় ঘুমিয়ে ছিল ১০ মাস বয়সী রাইয়ান। এ সময় তার মা ঘরের বাইরে সাংসারিক কাজে ব্যস্ত ছিলেন। হঠাৎ কুকুরের ডাক শুনে ঘরে ফিরে ছেলেকে আর খুঁজে পাননি তিনি।
এ ঘটনায় ওই রাতেই শিশুটির মা বাদী হয়ে কলাপাড়া থানায় তার আপন বোনের স্বামী আল-আমীনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। পরে পুলিশ তাকে আটক করে।