
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বলদিয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের খেজুরবাড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, ওই গ্রামে এক বিধবা নারীর বসতঘরে প্রতিবেশী রতন কুমার বাগচী নামে এক যুবক পান খেতে যান। বিষয়টির ওপর নজর রেখে পূর্বশত্রুতার জেরে যুবলীগ নেতা আরিফুল ইসলাম, স্থানীয় সবুজ বাগচী ও মো. শরীফ হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে ঘরে প্রবেশ করেন। আপত্তিকর সম্পর্কের অপবাদ দিয়ে ভিডিও ধারণের দাবি তুলে তারা ভুক্তভোগীর কাছে ২ লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করার হুমকি দেন। পরে লোকলজ্জার ভয়ে ভুক্তভোগী পরিবার দুই ধাপে প্রথমে ২০ হাজার ও পরবর্তীতে ৯ হাজারসহ মোট ২৯ হাজার টাকা দিতে বাধ্য হয়।
ভুক্তভোগী রতন কুমার বাগচী বলেন, ‘আমার প্রতিবেশী ওই নারীর সঙ্গে পারিবারিকভাবে সুসম্পর্ক থাকায় সন্ধ্যার দিকে ঘরে ঢুকে একটি পান খাই। এ সময় ওৎ পেতে থাকা যুবলীগ নেতা আরিফুল ইসলাম, সবুজ বাগচী ও মো. শরীফ ঘরে ঢুকে আমাকে অপবাদ দিয়ে ভিডিও ধারণের কথা বলে ২ লাখ টাকা দাবি করেন। লোকোলজ্জার ভয়ে ওদেরকে দুই ধাপে ২৯ হাজার টাকা দিতে বাধ্য হই। পরবর্তীতে স্থানীয়দের জানালে তারা কোনো ভিডিও দেখাতে পারেননি। আমি অন্যায় করলে স্থানীয়দের মাধ্যমে বিচার না করে গোপনে ভয় দেখিয়ে টাকা নেওয়ার ঘটনায় আমি বিচার চাই।’
স্থানীয় ইউপি মেম্বার মনোজ কুমার ঢালী বলেন, ‘বিষয়টি আমি শুনেছি। ভুক্তভোগী ওই নারী ও রতন কুমার বাগচীর পরিবারের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকায় প্রায়শই দুই পরিবার আসা-যাওয়া করে। এটা দোষের কিছু নয়। উভয় পক্ষকে ডেকেছিলাম। তাদের আপত্তিকর অবস্থায় দেখার স্বপক্ষে কোনো ভিডিও অথবা সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেননি। ভয়ভীতি দেখিয়ে ২৯ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া ঠিক হয়নি।’
এ বিষয়ে অভিযুক্ত যুবলীগ নেতা আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘ওই নারীর সঙ্গে রতন কুমার বাগচীর অবৈধ সম্পর্ক আছে। আমরা দুজনকে আপত্তিকর অবস্থায় হাতেনাতে ধরেছি।’
চাঁদা নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি চাঁদা নিইনি। মিষ্টি খাবার জন্য দুই হাজার টাকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দিয়েছি।’
মোবাইলে ভিডিও ধারণের কথা জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, ‘রাতের আঁধারে ভিডিও ধারণ করেছি তাই ক্লিয়ার ওঠেনি’ বলে লাইনটি কেটে দেন।
বলদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মাস্টার এনামুল হক রতন বলেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়ায় বিএনপি নেতার নাম ভাঙিয়ে চাঁদা নেওয়ার খবর দেখে সরেজমিনে গিয়েছিলাম। ওই স্থানে গিয়ে দেখি অভিযুক্ত আরিফুল ইসলাম বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। দুই-একদিনের মধ্যে উভয়পক্ষকে ডেকে প্রকৃত ঘটনা জেনে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করব।’
নেছারাবাদ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, ‘এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ পাইনি। লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।’