1. faysal.rakib2020@gmail.com : admin :
  2. thelabpoint2022@gmail.com : Rifat Hossain : Rifat Hossain
শখের বাগানে আছে ৩৭ জাতের আম - বাংলার কন্ঠস্বর ।। Banglar Konthosor
শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১০:০১ অপরাহ্ন
নোটিশ :
বিভিন্ন জেলা,উপজেলা-থানা,পৈারসভা,কলেজ পর্যায় সংবাদকর্মী আবশ্যক । 01711073884

শখের বাগানে আছে ৩৭ জাতের আম

  • প্রকাশিত : শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬
  • ১৩ 0 বার সংবাদি দেখেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক।।

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় ফলচাষি রেজাউল করিম খন্দকার নিজের শখের আদলেই নিজ বাড়ির পাশেই গড়ে তুলেছেন ফলের বাগান। শখ করে ফলগাছ লাগানো শুরু করেছিলেন প্রায় ৯ বছর আগে। প্রথমে তিনি আমগাছ দিয়ে বাগান শুরু করেন। পরে একে একে কমলা, মাল্টা, পেয়ারা, জামরুল, ডালিম, কাঁঠাল, ড্রাগন ফল, ত্বীন, নাশপাতি, স্ট্রবেরিসহ দেশি-বিদেশি নানা জাতের ফলের গাছ যুক্ত করেন। এখন তার বাগানে ৩৭ জাতের আম গাছসহ দেশি-বিদেশি নানা জাতের শতাধিক ফলগাছ রয়েছে।

 

বৃহিস্পতিবার (২ জুলাই) উপজেলার দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নের সরিয়া গ্রামে তার বাগানে গিয়ে দেখা গেছে, গাছে গাছে নানা জাতের আম ঝুলছে সবুজ এই বাগানে। সযত্নে তিনি তা পরিচর্যা করছেন। প্রতিটি গাছে ফলের পরিচিতি লেখা রয়েছে।

 

জানা যায়, শখ থেকেই দেশ-বিদেশ থেকে আমের চারা সংগ্রহ করে বাড়িটির সীমানার মধ্যে রোপণ করা হয়। ৩৭ জাতের আমের জাত এখন ওই বাড়ির বাগানে। কয়েক বছর ধরেই বিভিন্ন গাছে, বিভিন্ন জাতের আম আসছে। এতে ওই বাড়ির লোকজনের আমের চাহিদাই শুধু পূরণ হচ্ছে না, আমের বৈচিত্র্যপূর্ণ স্বাদের সঙ্গেও তাদের পরিচিত করছে। এবার টানা খরার কবলে পড়ে বাগানটি, তার পরও তার বাগানে ধরেছে প্রায় ৩৭ জাতের আম। নানা আকার, রং ও স্বাদের আম এখন গাছের ডালে ডালে ঝুলছে। এতেই ‘সৌখিন চাষি’ রেজাউল করিম খন্দকারের মন ভরে উঠেছে।

আমের মধ্যে আছে আলফানসো, আমেরিকান কেন্ট, হিমসাগর, চেং মাই, পাকিস্তানি চোষা, আমেরিকান পালমা, সামার বেহেস্ত, সূর্যডিম, নাচ ১, নাচ ২, নাচ ৩, বৈশাখী, বান্দি নুড়ি, গৌর মতি, কাটিমন, থাই কাঁচা মিঠা, কুনাই, বাউ ৩, বারি ১১, নাম ডাক মাই, হাঁড়িভাঙা, ব্লাকস্টোন, মহাচনক, কিউজাই, ব্রুনাই কিং, ব্যানানা, আম্রপালি, হানিডিউ, বারি ৪, ঝাই সাই, ন্যাম ডকমাই ইয়েলো, ন্যাম ডকমাই মুন, সীতাভোগ, অম্বিকা, ভ্যালেন্সিয়া প্রাইড, অস্টিন, সাদা পুনাই, সি-মুয়াং, সারেংগা ইত্যাদি।

রেজাউল করিম খন্দকার বলেন, শুধু আমই নয় কমলা ও মাল্টার মধ্যে রয়েছে—হানিডিউ, কমলা তারাক, রুপি গ্রেপ, কারা কারা অরেঞ্জ, ওয়াশিংটন নেভাল, ঘেয়ার সুম মাল্টা, চায়না কমলা, দিলোটি কমলা ও থাই-২।

 

আঙুরের মধ্যে রয়েছে—আঙুর গ্রিল লং, এলিস, ফ্যান্টাসি, বাইকুলুর, জয়, ভিতুবি ব্ল‍্যাক ও এবিউ জায়ান্ট। চেরি ও পিচের মধ্যে রয়েছে আফ্রিকান রেড পিচ, সাবান চেরি ও ব্ল‍্যাক সুরিন-মি চেরি। লংখানের জাতগুলো হলো আরকা পেয়ারা, ম্যাটোয়া লংগান, সিজন লংগান টাকা, জাম্ব লংগান, গাই লংগান, শিংপং লংগান, শিং শিংপং লংগান, রেড পিংগং ও রেড ক্রিস্টাল।

 

রেজাউল করিম বাড়ির বাগানে ফল চাষের শুরুটাও করেছিলেন আমের চারা রোপণের মাধ্যমে। ২০১৭ সালে শখ থেকে বাড়ি আঙিনায় একটি টিলায় আমের চারা রোপণ করেন। সেই থেকে ফল রোপণের শুরু, ধীরে ধীরে প্রায় দুই একরের বাড়ির যেদিকে তাকানো যায়, নানারকম ফল গাছের সমারোহ চোখে পড়ে। আমের জাত ও গাছের সংখ্যা বেড়েছে। যত দিন গেছে নানা স্বাদ ও রঙের বৈচিত্র্য তাকে আমের প্রতি আরও আগ্রহী করে তুলেছে। দেশ-বিদেশের নানা প্রান্ত থেকে আমের চারা সংগ্রহ করেছেন।

 

রেজাউল করিম জানান, তিনি একটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। এই চাকরির বাইরে যেটুকু অবসর পান, তার বেশির ভাগ সময় ওই বাগানেই ব্যয় করে থাকেন। এটি কোনো বাণিজ্যিক উদ্যোগ নয়, এটি তার শখের, ভালো লাগার, ভালোবাসার একটি উদ্যান। যখনই গাছে আমের এমন সমারোহ দেখেন, গাছের দিকে তাকান—তার মন ভরে যায়। এখন আমের মৌসুম। গাছের শাখা-প্রশাখায় কাঁচা-পাকা আম ঝুলছে।

 

তিনি বলেন, এবার ফলন মোটামুটি ভালো হয়েছে। লম্বা খরার কবলে না পড়লে গাছে প্রচুর আম থাকত। খরায় অনেক আম ঝরে পড়েছে। খরার সময় তার সেচের মোটরটি নষ্ট হয়ে যায়। এটি ঠিক করাতে দুদিন সময় যায়। এতে অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে। এবার নাচ ১ ও নাচ ৩, সামার বেহেস্ত, আমেরিকান কেস্ট ও আমেরিকান পালমা জাতের আম বেশি এসেছে। খরার সময় ব্যানানা জাতের এক গাছে ২০০ আম গুনে দেখেছেন। ব্রুনাই কিং জাতের একটি আম এখনই গাছে দুই কেজি ওজন হয়েছে। এখনো কাঁচা রয়েছে। গত বছর একই জাতের একটি আম সাড়ে তিন কেজি ওজন হয়েছিল। এবার দুই কেজির আমটি পাঁচ কেজির মতো হতে পারে বলে আশা করছেন।

 

নিজের বাগানের আম নিয়ে এই চাষির ভাষ্য, বাগানে যে আম আছে তা পাকতে এক মাসের মতো সময় লাগবে। এতে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন স্বাদের আম খেতে পারবেন তিনি। তার বাগানের আম বিক্রি করার ইচ্ছা নেই। এই বাগান তৈরি করায় নিজের পরিবারের আমের চাহিদা পূরণ হচ্ছে। সেইসঙ্গে বৈচিত্র্যপূর্ণ আম খেতে পারছেন পরিবারের সদস্যরা। আত্মীয়স্বজনকে দিতে পারছেন নতুন ধরনের, নতুন স্বাদের ফর্মালিনমুক্ত আম। তার আমবাগান দেখতে প্রায়ই পরিচিত লোকজন এসে থাকেন।

 

রেজাউল করিম জানান, এই আম চাষে চারা রোপণ শেষে তার তেমন কোনো বাড়তি খরচ নেই। গাছে কোনো ধরনের রাসায়নিক সার ব্যবহার করেন না। নিজে প্রয়োজনীয় জৈব সার তৈরি করেন এই সারই ব্যবহার করেন।

 

তিনি আরও বলেন, ‘আমি দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আমের চারা সংগ্রহ করা ছাড়াও ভারত থেকেও চারা এনেছি। আমের জাত আরও বাড়ানোর ইচ্ছা আছে। এবার বিভিন্ন স্থান থেকে আরও চারা আনাব। বাড়ির মধ্যে বাগান তৈরি ও আম চাষে আমার তেমন কোনো সমস্যা হয় না। তবে প্রায়ই তিন-চারটা বানর আসে, এ ছাড়া বেশি সমস্যা করে কাঠবিড়াল ও বাঁদর। নানা কায়দায় তাদের তাড়ানোর ব্যবস্থা করি। সমস্যা বলতে এটুকুই।’

 

স্থানীয়দের মতে, শখ থেকে শুরু হওয়া রেজাউল করিম খন্দকারের এই উদ্যোগ এখন শুধু একটি আমবাগান নয়; বরং এলাকার অনেকের জন্য অনুপ্রেরণার নাম। বাড়ির পাশের অব্যবহৃত জমিকে কাজে লাগিয়ে পরিকল্পিতভাবে ফলচাষ করলে যে সফল হওয়া সম্ভব, তার উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে উঠেছে তার ৩৭ জাতের আমের এই ব্যতিক্রমী বাগান।

 

বড়লেখা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘দুই সপ্তাহ আগে আমি ওই বাড়িতে গিয়েছিলাম। বাড়িতে নানা জাতের আমের সমাহার দেখে আমি মুগ্ধ। এ বছর মোটামুটি ফলন ভালো হয়েছে। উনি তো শুধু বাংলাদেশ না বাইরের অনেক দেশ থেকে বিভিন্ন জাতের আমের চারা এনে রোপণ করেছেন এবং তাথে ফলনও এসেছে।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Comments are closed.

‍এই ক্যাটাগরির ‍আরো সংবাদ
Theme Customized By BreakingNews