
নিজস্ব প্রতিবেদক।।
কাগজে-কলমে বরিশাল নগরীতে খালের সংখ্যা ২৪টি। তবে দখল, দূষণ ও অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে বেশিরভাগ খালের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানে মাত্র সাতটি কোনোরকম টিকে রয়েছে। কিন্তু জোয়ার-ভাটার ওপর নির্ভরশীল এসব খালেও স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ কমে গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাব, দখল ও অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কারণে খালগুলোর করুণ অবস্থা।
জানা যায়, খালগুলোর পানিপ্রবাহ ফিরিয়ে আনতে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে খননকাজ শুরু করা হয়। প্রায় ৬ কোটি ৭ লাখ টাকার প্রকল্পের কাজ শেষ হয় ২০২৪ সালের জুনে। তবে বছর পেরোতেই ভরাট হয়ে পড়েছে খালগুলো। খালগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
নগরীর উত্তর আমানতগঞ্জের মধ্যে দিয়ে বয়ে যাওয়া খালটি কবে পুনঃখনন করা হয়েছে তার তথ্য নেই স্থানীয়দের কাছে। খালটি দিয়ে আমানতগঞ্জ ও ভাটিখানাসহ কয়েকটি এলাকার পানি কীর্তনখোলা নদীতে যায়। কিন্তু খালটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় বর্ষা মৌসুমে পানি নামতে পারে না। শনিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, জোয়ারের পানি খালে আসতে পারেনি। খালটি পলিথিনসহ ময়লা আবর্জনায় ভরে রয়েছে।
জেল খালের অবস্থা আরও করুণ। দেড় বছর পূর্বে খালটি পুনঃখনন করা হলেও নগরীর বর্জ্যে ভরে আছে।
দীর্ঘদিন আগে কীর্তনখোলা নদীর পোর্ট রোড বাজারের বিপরীতে রসুলপুরে চর জেগে খালে রূপ নেয়। এটি পোর্ট রোড খাল হিসেবে পরিচিত। বরিশাল নৌবন্দরের পাশ দিয়ে পণ্যবাহী নৌযান প্রবেশ করে মাছ বাজার, কলাপট্টি, ফরিয়াপট্টি ও পেঁয়াজপট্টির বিভিন্ন আড়তে খালাস করে। এ খাল দিয়ে প্রতিদিন কোটি টাকার পণ্য আনা-নেওয়া করা হয়। কিন্তু ভাটার সময় খালে পানি থাকে না। বাধ্য হয়ে কীর্তনখোলা নদীর প্রবেশমুখে পণ্য খালাস করতে হয়।
একই অবস্থা নগরীর রূপাতলী, পলাশপুর, সাগরদী, চাঁদমারী ও ভাটার খালেরও। এসব খাল ময়লা আবর্জনায় ভরাট হয়ে কমে গেছে পানিপ্রবাহ। বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল বারী বলেন, নতুন করে আমরা খাল খননের জন্য ৭৫৯ কোটি টাকার একটি প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। একনেকে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। অনুমোদন হলে খালগুলো খনন করে তীরে ব্লক দেওয়া হবে। বর্তমানে খাল পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কার্যক্রম চলছে।