1. faysal.rakib2020@gmail.com : admin :
  2. thelabpoint2022@gmail.com : Rifat Hossain : Rifat Hossain
চমক দেখাতে চায় বিএনপি - বাংলার কন্ঠস্বর ।। Banglar Konthosor
রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫৪ অপরাহ্ন
নোটিশ :
বিভিন্ন জেলা,উপজেলা-থানা,পৈারসভা,কলেজ পর্যায় সংবাদকর্মী আবশ্যক ।

চমক দেখাতে চায় বিএনপি

  • প্রকাশিত : রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬
  • ১৫ 0 বার সংবাদি দেখেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক // ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ে সরকার গঠনের পর এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও ধারাবাহিক জয়ের চমক দেখাতে চায় বিএনপি। সেই লক্ষ্য নিয়েই স্থানীয় নির্বাচনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিতে যাচ্ছে দলটি। যদিও স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে দলীয় প্রতীকবিহীন, তারপরও এই নির্বাচনে একাধিক প্রার্থী থেকে ‘একক’ প্রার্থী চূড়ান্ত করার মাধ্যমে শতভাগ জয়ের বিষয়টি প্রাধান্য দিচ্ছে বিএনপি। থাকবে একক প্রার্থীর পক্ষে স্থানীয় বিএনপির সমর্থন। বিশেষভাবে নজর রাখা হচ্ছে আওয়ামী লীগের সমর্থক-সমর্থনকারী এবং জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ভোটের সমীকরণ। এদিকে নির্বাচন কমিশন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কাল-পরশু নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করা হতে পারে। বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমনটাই জানা যায়।

বিএনপির নীতিনির্ধারকরা বলছেন,স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরের ভোট শুরু হওয়ার সম্ভাবনাকে প্রাধান্য দিয়ে দেশব্যাপী তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত বিএনপি অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষা এবং আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিজয় নিশ্চিত করতে সুনির্দিষ্ট ও কঠোর মানদণ্ডের ভিত্তিতে ‘একক প্রার্থী’ সমর্থনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তৃণমূলের বিশৃঙ্খলা এড়াতে বিভিন্ন মানদণ্ড বিবেচনা করে প্রার্থীর বিরুদ্ধে কোনো ধরনের দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, জননিপীড়ন, জমি দখল বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ থাকা চলবে না। এলাকায় সাধারণ মানুষের কাছে প্রার্থীর ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্ন ইমেজকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হবে। কেবল দলীয় কর্মীদের কাছেই নয়, বরং এলাকার সাধারণ দল-মত নির্বিশেষ জনগণের মধ্যে প্রার্থীর গ্রহণযোগ্যতা কতটুকু এবং ভোটের মাঠে তিনি ব্যক্তিগতভাবে কতটা জনপ্রিয়, তা জরিপের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হবে। বিগত বছরগুলোতে দলের কঠিন সময়ে প্রার্থীর ভূমিকা কী ছিল, তা মূল্যায়ন করা হবে। বিশেষ করে রাজনৈতিক মামলা-হামলার শিকার হওয়া, রাজপথে সক্রিয় থাকা এবং দলের নীতি ও আদর্শের প্রতি অবিচল আনুগত্য প্রদর্শনকারী ত্যাগী নেতাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এ ছাড়া স্থানীয় আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপট, আঞ্চলিক সমীকরণ এবং প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের বিপরীতে ওই নির্দিষ্ট প্রার্থীর জয়ী হয়ে আসার কৌশলগত ও সাংগঠনিক সক্ষমতা কতটা মজবুত, সেটিই হবে প্রার্থী বাছাইয়ের চূড়ান্ত নিয়ামক।

সংশ্লিষ্টরা আমাদের সময়কে বলেছেন, দীর্ঘদিন পর দেশে একটি নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরির প্রেক্ষাপটে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে (ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও উপজেলা) অ্যাসিড টেস্ট হিসেবে দেখছে বিএনপি। জাতীয় নির্বাচনের সমান্তরালে স্থানীয় সরকার কাঠামোতেও নিজেদের নিরঙ্কুশ জয়ে জনসাধারণের কাছে সাংগঠনিক গ্রহণযোগ্যতা তুলে ধরতে চায় দলটি। কারণ এবারের স্থানীয় নির্বাচন ক্ষমতাসীন বিএনপির জন্য একই সঙ্গে জনপ্রিয়তা প্রমাণের মঞ্চ এবং অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষার এক চরম পরীক্ষা। এই বিষয়টি লক্ষ্য রেখেই মাঠপর্যায়ের সাংগঠনিক পুনর্গঠনের কাজ দ্রুত শেষ করার তাগিদ বিএনপির। পাশাপাশি দলীয় প্রতীক না থাকায় ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী ও সহিংসতার আশঙ্কা নিয়েও কিছুটা উদ্বেগ আছে। প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো- একক প্রার্থী নিশ্চিত করা এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে দলীয় ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখা। স্থানীয় নির্বাচনে স্থানীয় দ্বন্দ্ব, প্রভাব বিস্তার ও সংঘর্ষের ঝুঁকি থাকে। একই সঙ্গে স্থানীয় নির্বাচনকে মাঠপর্যায়ে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমে গতি আনার সুযোগ হিসেবেও দেখছে তারা। কারণ স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুধু প্রশাসনিক শূন্যতা পূরণের বিষয় নয়; এটি দলীয় সংগঠনকে আবার মাঠে সক্রিয় করারও সুযোগ। তবে সেই সুযোগ কাজে লাগাতে হলে একক প্রার্থী নিশ্চিত করা, ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী ঠেকানো এবং নির্বাচন ঘিরে সহিংসতা নিয়ন্ত্রণ করার চ্যালেঞ্জ সামলাতে হবে দলটিকে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আমাদের সময়কে বলেন, নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ে কোনো স্তরেই দলীয় চেইন অব কমান্ড ভাঙার সুযোগ দেওয়া হবে না। জেলা ও উপজেলায় বিশেষ বাছাই কমিটি গঠন করা হচ্ছে, যারা মাঠ পর্যায়ের জরিপ ও জনগণের মতামতের ভিত্তিতে সামঞ্জস্যপূর্ণ একক প্রার্থী নির্ধারণে সহায়তা করবে। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কেউ প্রার্থী হলে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে দল থেকে বহিষ্কার এবং আজীবনের জন্য সাংগঠনিক পদ থেকে বঞ্চিত করার নীতিগত সিদ্ধান্ত থাকছে; এমনকি দলীয় কোনো পদে থেকে যদি কেউ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে চান, তবে তাকে প্রয়োজনে পদ ছাড়তে হতে পারে- এমন একটি অভ্যন্তরীণ নিয়ম নিয়েও দলে আলোচনা চলছে।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রিজভী বলেন, আমরা তৃণমূল নেতাদের নির্দেশ দিয়েছি যেন তারা প্রার্থীদের সঙ্গে জনগণের সম্পৃক্ততা, স্থানীয় গ্রহণযোগ্যতা এবং দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে তাদের প্রতি সমর্থন- এসব বিষয় বিবেচনা করেন। একই এলাকা থেকে একাধিক প্রার্থী যাতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করেন, সে বিষয়ে স্থানীয় নেতাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের নেতারা প্রার্থীদের যাচাই-বাছাই করবেন এবং উপযুক্ত বিবেচিতদের সমর্থন দেবেন।

জানা যায়, স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে ৪ সদস্যের কেন্দ্রীয়ভাবে নির্বাচন পরিচালনা প্রস্তুতি কমিটি গঠনের মাধ্যমে দলটির নির্বাচনী রোডম্যাপ ও রাজনৈতিক তৎপরতা চূড়ান্ত রূপ নিতে শুরু করেছে। কমিটিতে রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. ইসমাইল জবিহুল্লাহ ও দলের বিশেষ সম্পাদক বেলায়াত হোসেন মৃধা। কমিটি ইতোমধ্যে বিভিন্ন বিভাগীয় সাংগঠনিক ইউনিটের সঙ্গে ধারাবাহিক ভার্চুয়াল ও সরাসরি বৈঠক সম্পন্ন করেছে। জানা গেছে, প্রয়োজনে এই কমিটির আকার আরও বৃদ্ধি করা হতে পারে।

বিএনপির (ময়মনসিংহ বিভাগীয়) সাংগঠনিক সম্পাদক শরীফুল আলম আমাদের সময়কে বলেন, একক প্রার্থী বাছাইয়ে যদি আমরা কিছুটা প্রেসার না রাখি, কন্ট্রোল না করি, তাহলে দেখা যাবে পতিত আওয়ামী লীগের সমর্থক-সমর্থনকারী এবং জামায়াত ও এনসিপির প্রার্থীরা সুযোগ নেবে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাবে ওদের একজনই হবে প্রার্থী। সে কারণে আমরা একক প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়াকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। দলের একক প্রার্থী বা একাধিক প্রার্থী হোক, একটা সহনশীল জায়গায় রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। নির্বাচন ফেয়ার হবে, প্রার্থী কমিয়ে পরিবেশটা তৈরি করে দিতে হবে। অবশ্য প্রার্থী চূড়ান্ত করতে স্থানীয় নেতৃত্বকে সঙ্গে নিয়ে সংসদ সদস্য কিছু ভূমিকা পালন করবেন। অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় পর্যায়ে সমাধান না হলে বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকরা সহযোগিতা করবেন। যেখানে খুব জটিল হবে সেখানে স্থানীয় পর্যায়ে না হলে ওপরের পর্যায়ে যাবে; আল্টিমেটলি ঢাকায়ও আনা হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ডিসেম্বরে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সম্ভাবনার চেয়ে সম্ভবত জানুয়ারিতে শুরুর সম্ভাবনাই বেশি। আমাদের কাছে যে বার্তা আছে, তাতে ইউপি দিয়ে শুরু হতে পারে নির্বাচন।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু আমাদের সময়কে বলেন, দলীয় প্রতীক না থাকলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে রাজনৈতিক দলের সমর্থন থাকে। বিএনপি বড় দল, তাই একেকটি এলাকায় একাধিক প্রার্থী থাকা স্বাভাবিক। তাদের মধ্যে কীভাবে সমন্বয় করা যায়, সে কৌশল নিয়ে কাজ করছেন শীর্ষ নেতারা।

তিনি বলেন, এই নির্বাচন সরকারের জন্যও একটি বড় পরীক্ষা। কারণ জাতীয় নির্বাচনের পর এই নির্বাচন হবে মাঠপর্যায়ে সরকারের জনপ্রিয়তার প্রথম বড় পরীক্ষা। অন্যদিকে দলের জন্য এটি হবে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ও জনসংযোগের পরীক্ষা।

গত ২৪ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেছেন, নির্বাচন কমিশন নভেম্বর-ডিসেম্বরের পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষার পর জানুয়ারি মাসে নির্বাচন আয়োজনের বিষয়টি বিবেচনা করছে। এ ছাড়া ২৯ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী স্থানীয় সরকার নির্বাচন জানুয়ারি মাসে শুরু হয়ে ৬ জুন পর্যন্ত চলবে।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Comments are closed.

‍এই ক্যাটাগরির ‍আরো সংবাদ
Theme Customized By BreakingNews