1. faysal.rakib2020@gmail.com : admin :
  2. thelabpoint2022@gmail.com : Rifat Hossain : Rifat Hossain
জীবনের কঠিন সময়ে ভরসা রাখুন কুরআনের এই ৫ আয়াতে - বাংলার কন্ঠস্বর ।। Banglar Konthosor
মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:৪২ অপরাহ্ন
নোটিশ :
বিভিন্ন জেলা,উপজেলা-থানা,পৈারসভা,কলেজ পর্যায় সংবাদকর্মী আবশ্যক । 01711073884

জীবনের কঠিন সময়ে ভরসা রাখুন কুরআনের এই ৫ আয়াতে

  • প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬
  • ১০ 0 বার সংবাদি দেখেছে

ধর্ম ডেস্ক // জীবনে বিপদ-আপদ, দুঃসময় কিংবা নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হওয়া স্বাভাবিক। এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই হতাশ হয়ে পড়েন এবং নিজেদের দুর্ভাগ্য কিংবা ‘খারাপ সময়’ কে দায়ী করেন। কিন্তু ইসলামের দৃষ্টিতে সময়কে দোষারোপ করা বা বিপদকে শুধু দুর্ভাগ্যের ফল হিসেবে দেখা সঠিক নয়। বরং ধৈর্য ধারণ, সৎকর্ম ও আল্লাহর কাছে দোয়ার মাধ্যমে কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, মানুষের সৎকর্ম তার জীবনে কল্যাণ বয়ে আনে এবং দোয়া আল্লাহর নির্ধারিত ফয়সালার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিপরীতে মানুষের অন্যায় ও অসৎকর্ম তার রিজিক থেকে বঞ্চিত হওয়ার কারণ হতে পারে। (সুনান ইবনু মাজাহ, হাদিস: ৯০; সুনান আত-তিরমিজি, হাদিস: ২১৩৯)

ইসলামে সময়কে গালি দেওয়া বা ‘খারাপ সময়’ বলে সময়ের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করতেও নিষেধ করা হয়েছে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আল্লাহ তাআলা বলেন, আদম সন্তান সময় ও কালকে দোষারোপ করে, অথচ সময়ের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ তাঁরই হাতে; রাত ও দিনের পরিবর্তনও তাঁরই ইচ্ছায় সংঘটিত হয়। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৫৬৬৭)

তাই জীবনে কোনো কঠিন পরিস্থিতি এলে হতাশ হয়ে পড়ার পরিবর্তে ধৈর্য ধারণ করা এবং আল্লাহর ওপর ভরসা করা উচিত। একই সঙ্গে দুশ্চিন্তা, ভয় ও বিপদ থেকে মুক্তির জন্য আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়ার শিক্ষা দিয়েছেন নবীজি (সা.)।

আরেক হাদিসে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) মানুষকে ভয়াবহ বিপদ, দুর্ভাগ্য, মন্দ পরিণতি ও শত্রুর আনন্দ থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাইতে বলেছেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬১৬৩; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৬৬৩০)

বিপদের সময়ে কুরআনের যে আয়াতগুলো মনে রাখা যায়

১. ধৈর্য ধারণের শিক্ষা

আল্লাহ তাআলা জানিয়েছেন, মানুষকে ভয়, ক্ষুধা এবং জান-মাল ও ফসলের ক্ষতির মাধ্যমে পরীক্ষা করা হবে। এরপর ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে। বিপদের সময় মুমিনরা বলে, ‘নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর এবং তার কাছেই ফিরে যাব।’ সুরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৫৫-১৫৬

২. পরীক্ষার সময় ধৈর্য

কুরআনে বলা হয়েছে, মানুষের সম্পদ ও জীবন নিয়েও পরীক্ষা আসবে। এমনকি নানা কষ্টদায়ক কথাও শুনতে হতে পারে। তবে ধৈর্য ও তাকওয়া অবলম্বন করতে পারলে সেটিই হবে দৃঢ়তার পরিচয়। সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৮৬

৩. আল্লাহ বান্দার কাছেই আছেন

আল্লাহ তাআলা বলেছেন, তার বান্দারা যখন তার সম্পর্কে জানতে চায়, তখন তিনি জানান তিনি অত্যন্ত নিকটবর্তী। কেউ তাকে ডাকলে তিনি তার আহ্বানে সাড়া দেন। তাই আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস রেখে তার নির্দেশ মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। সুরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৮৬

৪. ভালো কাজের জন্য সহজ পথ

সৎকর্ম, আল্লাহভীতি এবং উত্তম বিষয়কে সত্য হিসেবে গ্রহণ করার মাধ্যমে মানুষ আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারে। এমন ব্যক্তির জন্য আল্লাহ সহজ পথে চলার সুযোগ করে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। সুরা আল-লাইল, আয়াত: ৪-৭

৫. সামর্থ্যের বাইরে দায়িত্ব নয়

কুরআনের অন্যতম আশ্বাস হলো, আল্লাহ কোনো মানুষকে তার সামর্থ্যের বাইরে দায়িত্ব দেন না। মানুষ যে ভালো কাজ করে, তার সুফল সে নিজেই পায়; আবার অন্যায়ের ফলও তাকে বহন করতে হয়। একই আয়াতে ভুল-ত্রুটি ক্ষমা করা, বোঝা হালকা করা এবং আল্লাহর রহমত লাভের জন্য দোয়া শেখানো হয়েছে। সুরা আল-বাকারা, আয়াত: ২৮৬

অতএব জীবনে দুঃসময় এলে সেটিকে শুধু ‘খারাপ ভাগ্য’ বলে হতাশ না হয়ে আল্লাহর ওপর ভরসা, ধৈর্য, সৎকর্ম ও দোয়ার মাধ্যমে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা উচিত। কারণ বিপদ যেমন মানুষের জন্য পরীক্ষা হতে পারে, তেমনি তা আল্লাহর দিকে ফিরে আসার একটি সুযোগও হতে পারে।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Comments are closed.

‍এই ক্যাটাগরির ‍আরো সংবাদ
Theme Customized By BreakingNews