আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে মির্জাগঞ্জ উপজেলা কোর্ট এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়ে প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা হাতে ঝাড়ু নিয়ে “পকেট কমিটি মানি না, মানবো না” স্লোগান দেন। এর আগে গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় ঝাড়ু হাতে মিছিল করে দুমকী উপজেলা যুবদলের পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল বুধবার কেন্দ্রীয় যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মির্জাগঞ্জ ও দুমকী উপজেলা যুবদলের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে মির্জাগঞ্জে গাজী রাশেদ শামসকে সভাপতি ও গাজী আতাউর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। আর দুমকীতে জাকির আলমকে (মিলন) সভাপতি ও জাহিদুল ইসলামকে (রুবেল) সাধারণ সম্পাদক করা হয়। এ ছাড়া দুটি উপজেলায় আরও আটজনকে বিভিন্ন পদ দেওয়া হয়েছে। যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আবুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন (এমপি) ওই কমিটির অনুমোদন দিয়েছেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে এক মাসের মধ্যে ৭১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে কেন্দ্রীয় দপ্তরে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মির্জাগঞ্জ উপজেলা যুবদলের একাধিক সূত্র জানায়, কমিটি প্রত্যাখান করে তারা উপজেলা পরিষদের সামনে সমাবেশে করেছেন। সেখানে বক্তব্য দেন উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান সুজন, বাবুল মুন্সি, শাহীন ফরাজি প্রমুখ। সদ্য ঘোষিত কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি নাসির উদ্দিন হাওলাদার এই মিছিলের নেতৃত্ব দেন।
বক্তারা নতুন ঘোষিত যুবদলের কমিটিকে “পকেট কমিটি” আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেন। তারা বলেন, ‘৫ আগস্টের আগে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে যাদের কোনো ভূমিকা ছিল না, আন্দোলনে যাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি, কেন্দ্রীয় নেতাদের ভুল বুঝিয়ে তারাই এই কমিটিতে স্থান পেয়েছে। যারা কোনোদিন যুবদল করে নাই, ব্যবসা করেছে এবং তারা আজ এই কমিটিতে ঢুকে পড়েছে।’
বক্তারা আরও বলেন, ‘দলের দুর্দিনে যেসব নেতাকর্মীরা রাজপথে ছিল, মামলা-হামলার শিকার হয়েছে, ত্যাগ স্বীকার করেছে, তাদেরকে বাদ দিয়ে কমিটি করা হয়েছে। এতে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।’ অবিলম্বে এই বিতর্কিত কমিটি বাতিল করে সকলের মতামতের ভিত্তিতে নতুন কমিটি গঠনের দাবি জানান তারা।
বক্তারা সরাসরি অভিযোগ করেন, তৃণমূলের মতামতকে পাশ কাটিয়ে, আন্দোলনে ত্যাগী কর্মীদের বাদ দিয়ে ‘পকেট কমিটি’ গঠন করা হয়েছে। তাদের ভাষ্য, রাজপথে যারা ছিলেন, মামলা-হামলা যারা সহ্য করেছেন, তাদের জায়গা হয়নি। অথচ হঠাৎ করে নতুন মুখ দিয়ে কমিটি সাজানো হয়েছে।
বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে উপজেলা যুবদল ও বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আসা যুবদলের শত শত নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
নাম প্রকাশ না শর্তে মিছিলে উপস্থিত একাধিক নেতা বলেন, ‘আমরা দলকে ভালোবাসি বলেই ঝাড়ু হাতে নিয়েছি। দলের ভেতরের ময়লা আমরাই পরিষ্কার করতে চাই।’ মির্জাগঞ্জে বিএনপির রাজনীতিতে যুবদলকে বলা হয় প্রাণশক্তি। সেই প্রাণশক্তির একাংশই এখন রাস্তায়। হাতে ঝাড়ু নিয়ে তারা শুধু কমিটি বাতিলই চাচ্ছেন না, চাচ্ছেন দলের ভেতরে স্বচ্ছতা।