
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইকবাল হোসেনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তার বিরুদ্ধে গুরুতর অসদাচরণ, শৃঙ্খলাভঙ্গ, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে হুমকি, দাপ্তরিক কাজে বাধা সৃষ্টি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার এবং ঘুষ গ্রহণসহ মোট ১০টি অভিযোগ এনে বিভাগীয় কার্যধারা শুরু করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (০৪ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মোহাম্মদ জামাল হোসেন স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
অফিস আদেশে বলা হয়, ড. ইকবাল হোসেনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে বিভাগীয় ও জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের সঙ্গে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কার্যালয়ে প্রবেশ করে গোপনীয় দাপ্তরিক নথি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা, সরকারি নথিপত্র ছিঁড়ে ফেলে প্রশাসনিক কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি এবং শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগও আনা হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, তিনি এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা, চেয়ার দিয়ে আঘাতের চেষ্টা এবং খুন-জখমের হুমকি দিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি যথাযথ অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যঙ্গাত্মক কার্টুন, কুরুচিপূর্ণ ব্যানার ও ভুয়া আইডি ব্যবহার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার ও মানহানিকর অপপ্রচার চালানোর অভিযোগও উত্থাপন করা হয়েছে।
অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়, বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য সরবরাহ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা, হোয়াটসঅ্যাপ ও মুঠোফোনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ বার্তা আদান-প্রদান এবং বিভিন্ন ব্যক্তিকে অবৈধভাবে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর বহিরাগতদের হামলা, নাশকতা ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পদের ক্ষতিসাধনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের মদদ দেওয়ার অভিযোগও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করতে এবং বিভাগীয় কার্যধারা নির্বিঘ্ন রাখতে পবিপ্রবির রিজেন্ট বোর্ডকে অবহিত করে সংশ্লিষ্ট বিধির ৯(১) ধারা অনুযায়ী ড. ইকবাল হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
অফিস আদেশ অনুযায়ী, সাময়িক বরখাস্তকালীন সময়ে তিনি বিধি অনুযায়ী খোরপোষ ভাতা ও অন্যান্য প্রাপ্য সুবিধা ভোগ করবেন। এ আদেশ ৪ আগস্ট ২০২৬ থেকে কার্যকর হয়েছে।
তবে অফিস আদেশে উল্লিখিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে ড. মুহাম্মদ ইকবাল হোসেনের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।