
বিশ্বকাপের ফাইনাল শেষে প্রায় এক সপ্তাহ নিজ শহর রোজারিওতে পরিবারের সাথে ছুটি কাটান মেসি। সে সময় অসুস্থ বাবা হোর্হে মেসির (৬৮) পাশে থাকেন তিনি, যার অসুস্থতার কথা বিশ্বকাপ চলাকালেই প্রকাশ করেছিল পরিবার। ২০২৬ বিশ্বকাপে ৮টি গোল ও ৪টি অ্যাসিস্ট করে আর্জেন্টিনা দলকে টেনে ফাইনালে নিয়ে গেলেও শেষ রক্ষা হয়নি। সোশ্যাল মিডিয়ায় দেয়া বার্তায় মেসি নিজের মনের কষ্ট প্রকাশ করে লিখেছিলেন, ‘কষ্টটা বিশাল এবং এই ক্ষত শুকাতে সময় লাগবে। তবে দলের লড়াই এবং কোটি মানুষের ভালোবাসা আমি সারাজীবন হৃদয়ে আগলে রাখব।’
আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের বিষয়ে এখনও স্পষ্ট বার্তা না দিলেও ক্লাব ফুটবলে মায়ামির হয়ে আবার মাঠে নামতে প্রস্তুত হচ্ছেন মেসি। বিশ্বকাপের পর শিকাগো ফায়ার ও সিএফ মন্ট্রিয়ালের বিপক্ষে মায়ামির হয়ে খেলতে পারেননি তিনি, বাদ দেওয়া হয়েছিল অল-স্টার গেম থেকেও। ইন্টার মায়ামি কোচ গুইয়েরমো হোয়োস জানিয়েছেন, মেসি ও রদ্রিগো দে পলকে মাঠে ফেরাতে কোনো তাড়াহুড়ো করা হবে না। তিনি বলেন, ‘বিশ্রাম খেলোয়াড়দের মানসিক ও শারীরিক পুনরুজ্জীবনের জন্য অপরিহার্য। দীর্ঘ ৫০ দিনের বিশ্বকাপ মিশনের পর তাদের পর্যাপ্ত বিশ্রামের প্রয়োজন রয়েছে। শতভাগ প্রস্তুত হলেই তারা মাঠে নামবেন।’
বিশ্বকাপের পর নতুন মৌসুমের যাত্রা ইতিমধ্যেই শুরু করে দিয়েছে ইন্টার মায়ামি। মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) তারা শিকাগো ফায়ার ও মন্ট্রিয়লকে হারিয়েছে। আগামী রোববার এমএলএসে পরের ম্যাচে কলম্বাস ক্রুর মুখোমুখি হবে দলটি। তবে মাঠে মেসির ফেরার দিনক্ষণ এখনো নিশ্চিত নয়। সবকিছু ঠিক থাকলে বৃহস্পতিবার লিগস কাপের ম্যাচে আতলেতিকো সান লুইসের বিপক্ষে তাকে আবারও মাঠে দেখা যেতে পারে। এই প্রতিযোগিতার সঙ্গে মেসির বিশেষ স্মৃতি জড়িয়ে আছে। উত্তর আমেরিকায় যোগ দেওয়ার পর ইন্টার মায়ামির হয়ে প্রথম শিরোপা জিতেছিলেন তিনি এই লিগস কাপেই।
ইন্টার মায়ামির দায়িত্বের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকান লিগের তারকাদের নিয়ে আয়োজিত ঐতিহ্যবাহী অল-স্টার ম্যাচেও খেলার জন্য মনোনীত হয়েছিলেন মেসি। তবে বিশ্বকাপে শেষ পর্যন্ত খেলার কারণে তাকে এই আসর থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। ফলে আজ রাতে শার্লটে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ম্যাচে তিনি খেলছেন না।
মেসির মতো তার সতীর্থ রদ্রিগো ডি পলও অল-স্টার ম্যাচের পর কয়েক দিনের ছুটির বিষয়ে আগেই ক্লাবের সঙ্গে সমঝোতা করেছিলেন। তাই এই ম্যাচে না খেললেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। গত বছরের পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। তখন অল-স্টার ম্যাচে অংশ না নেওয়ায় এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পেয়েছিলেন মেসি।