1. faysal.rakib2020@gmail.com : admin :
  2. thelabpoint2022@gmail.com : Rifat Hossain : Rifat Hossain
যাত্রী সংকটে ধুঁকছে ঢাকা–বরিশাল নৌরুট - বাংলার কন্ঠস্বর ।। Banglar Konthosor
শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ০৮:২০ অপরাহ্ন
নোটিশ :
বিভিন্ন জেলা,উপজেলা-থানা,পৈারসভা,কলেজ পর্যায় সংবাদকর্মী আবশ্যক । 01711073884

যাত্রী সংকটে ধুঁকছে ঢাকা–বরিশাল নৌরুট

  • প্রকাশিত : শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬
  • ২৩ 0 বার সংবাদি দেখেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক।।

পদ্মাসেতু চালুতে যাত্রী সংকট আর টানা লোকসানে একের পর এক বন্ধ হয়ে যাচ্ছে দক্ষিণাঞ্চলের নৌরুট। ফলে এসব রুটে চলাচলরত অসংখ্য লঞ্চমালিকদের সঙ্গে হাজারো শ্রমজীবী মানুষের জীবন-জীবিকাও এখন হুমকির মুখে।

 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বহু লঞ্চ অলস পড়ে আছে ডকইয়ার্ডে। কেউ বিক্রি করে দিচ্ছেন, আবার কেউ শেষ ভরসা হিসেবে কেটে ফেলছেন কোটি টাকার লঞ্চ। গত কয়েক বছরে ঢাকায় অন্তত পাঁচটি লঞ্চ স্ক্র্যাপ হিসেবে কেটে বিক্রি করা হয়েছে। বর্তমানে আরও কয়েকটি লঞ্চ একই পরিণতির অপেক্ষায় রয়েছে।

 

এক সময় সন্ধ্যা নামলেই ঢাকার সদরঘাট থেকে বরিশাল, পটুয়াখালী, ভোলা কিংবা ঝালকাঠিগামী লঞ্চে উঠতে হতো ধাক্কাধাক্কি করে। কেবিনের টিকিট মিলত না দিনের পর দিন। ডেকভর্তি যাত্রী, হকারদের হাঁকডাক আর নদীর বুকে আলোকিত লঞ্চ, এসবই ছিল দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের নিত্যদিনের পরিচিত দৃশ্য। কিন্তু ২০২২ সালের ২৫ জুন পদ্মাসেতু চালুর পর দেশের দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসে। আগে নৌপথে ঢাকা পৌঁছাতে পুরো একটি রাত লেগে যেত। এখন সড়কপথে মাত্র তিন থেকে পাঁচ ঘণ্টার মধ্যেই রাজধানীতে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে। ফলে দ্রুত ও সহজ যাতায়াতের কারণে যাত্রীরা ক্রমেই মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন নৌপথ থেকে।

 

লঞ্চ মালিকদের দাবি, এখন মূলত অসুস্থ, বয়স্ক কিংবা দীর্ঘ সড়ক ভ্রমণে অস্বস্তিবোধ করেন- এমন যাত্রীরাই লঞ্চে চলাচল করছেন। এতে অধিকাংশ লঞ্চেই দেখা দিয়েছে ভয়াবহ যাত্রী সংকট। তাঁরা জানান, এক সময় ব্যস্ততম ঢাকা–বরিশাল নৌরুটে নিয়মিত ২৬ থেকে ২৮টি লঞ্চ চলাচল করত। রাত হলেই সদরঘাট ও বরিশাল লঞ্চঘাটে সৃষ্টি হতো উৎসবমুখর পরিবেশ। অথচ এখন প্রতিদিন রোটেশন পদ্ধতিতে মাত্র দুই থেকে তিনটি লঞ্চ চলাচল করছে। তাতেও অনেক সময় পর্যাপ্ত যাত্রী পাওয়া যাচ্ছে না।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকা–বরিশাল রুটের একজন লঞ্চ মালিক বলেন, এক সময় লঞ্চে জায়গা পাওয়া ছিল কষ্টকর। এখন যাত্রীই পাওয়া যায় না। জ্বালানি খরচ, স্টাফদের বেতন আর রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় তুলতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। বাধ্য হয়ে অনেকে লঞ্চ বিক্রি করছেন, কেউ আবার স্ক্র্যাপ বানিয়ে দিচ্ছেন।

 

লঞ্চ চলাচল কমে যাওয়ার এই প্রভাবে জড়িত হাজারো শ্রমজীবী মানুষের জীবন-জীবিকাও এখন হুমকির মুখে। বরিশাল লঞ্চঘাটের মালটানা শ্রমিক ফজলু বলেন, ‘আগে দিন-রাত লঞ্চ আসত। মাল টেনে সংসার ভালো চলতো। এখন লঞ্চই কমে গেছে, কাজও নেই। বাধ্য হয়ে অন্য কাজ খুঁজতে হচ্ছে।’ একই আক্ষেপ ভ্রাম্যমাণ পণ্য বিক্রেতা সালামের কণ্ঠেও।

 

তিনি বলেন, ‘আগে লঞ্চ ছাড়ার সময় এমন ভিড় হতো যে, হাঁটার জায়গা পাওয়া যেত না। তখন ভালো বিক্রি হতো। এখন যাত্রী কমে গেছে, বিক্রিও নেই। দিন দিন অবস্থা খারাপ হচ্ছে।’

 

সংশ্লিষ্টরা জানান, যেসব লঞ্চ এখনো বিক্রি করা হয়নি, সেগুলোর বেশিরভাগই দীর্ঘদিন ধরে ডকইয়ার্ডে পড়ে রয়েছে। রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বাড়তে থাকায় লোকসানও বাড়ছে। ফলে পরিস্থিতির উন্নতি না হলে সেগুলোকেও স্ক্র্যাপ হিসেবে বিক্রি করে দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

 

তবে যাত্রীরা মনে করেন, লঞ্চ শুধু গণপরিবহন মাধ্যমই নয়, এটি দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের ঐতিহ্য, আবেগ ও সংস্কৃতির অংশ। বরিশালগামী যাত্রী আনোয়ার হোসেন বলেন, পদ্মাসেতুতে দ্রুত ঢাকা যাওয়া যায়, তাই সময় বাঁচাতে মানুষ সড়কপথ বেছে নিচ্ছে। কিন্তু লঞ্চ ভ্রমণের যে আরাম, সৌন্দর্য আর অনুভূতি, তা অন্য কোনো পরিবহনে পাওয়া যায় না। এই শিল্প বাঁচিয়ে রাখা দরকার।

 

সংশ্লিষ্টদের মতে, ঐতিহ্যবাহী লঞ্চ শিল্প টিকিয়ে রাখতে সরকারি প্রণোদনা, আধুনিকায়ন, নিরাপদ সেবা নিশ্চিত এবং নৌপথকেন্দ্রিক দীর্ঘমেয়াদি বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন প্রয়োজন।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Comments are closed.

‍এই ক্যাটাগরির ‍আরো সংবাদ
Theme Customized By BreakingNews