
শনিবার বার্তাসংস্থা এপির এক প্রতিবেদনে রুশ কর্মকর্তাদের বয়ড়াতে জানান হয়, শুক্রবার রাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত ইউক্রেন একাধিক ড্রোন হামলা চালায়। এর মধ্যে তামবভ অঞ্চলের কতোভস্ক এবং মস্কোর পূর্বে ইলেকট্রোস্তাল শহরে অবস্থিত ওয়াইল্ডবেরিজের দুটি গুদাম লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়।
কতোভস্কের গুদামে হামলার সময় রাতের শিফটে কর্মরত শ্রমিকরা কাজ করছিলেন। সেখানে আগুন লেগে সাত শ্রমিক নিহত এবং ২৫ জন আহত হন।
মস্কো অঞ্চলের গভর্নর আন্দ্রেই ভোরোবিওভ জানান, ইলেকট্রোস্তালের উত্তরে নোগিনস্ক শহরের একটি তেল ডিপোতেও ড্রোন আঘাত হানে। এতে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হলে পাশের একটি মাতৃসদন হাসপাতাল ও আশপাশের আবাসিক ভবন থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।
তিনি আরও জানান, ভূপাতিত একটি ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ কাছের একটি কিন্ডারগার্টেন ভবনে পড়ে আগুন লাগলেও পরে তা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
ভোরোবিওভের ভাষ্য, মস্কো অঞ্চলে হামলায় ৬১ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৪০ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আহতদের একজন পরে মারা যান।
এদিকে শনিবার বিকেলে রাশিয়ার সীমান্তবর্তী বেলগোরোদ অঞ্চলেও পৃথক একটি ড্রোন হামলায় একজন নিহত এবং আরেকজন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
হামলার পর ওয়াইল্ডবেরিজের উভয় গুদামেই আগুন ধরে যায়। কতোভস্কের গুদামের আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ইলেকট্রোস্তালের গুদামে দীর্ঘ সময় ধরে অগ্নিকাণ্ড চলতে থাকে।
এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দাবি করেছেন, হামলায় মস্কো ও তামবভ অঞ্চলের দুটি গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক কেন্দ্র এবং একটি তেল স্থাপনা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। তার মতে, এসব স্থাপনা রাশিয়ার ড্রোন ও নেভিগেশন সরঞ্জাম তৈরির জন্য নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত যন্ত্রাংশ সরবরাহে ব্যবহৃত হতো।
অন্যদিকে ইউক্রেনের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, নোগিনস্কের জ্বালানি ডিপো, কৃষ্ণসাগর ও আজভ সাগরে কয়েকটি তেলবাহী জাহাজ এবং রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণাধীন লুহানস্ক অঞ্চলের একটি রেলসেতুতেও হামলা চালানো হয়েছে।
তবে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শুক্রবার রাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত ১৯টি অঞ্চল, ক্রিমিয়া, আজভ সাগর ও কৃষ্ণসাগরের আকাশে মোট ৩৭৯টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করেছে।