ভারতীয় বার্তাসংস্থা এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।
সরকারের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেওয়ার আগে সাংবাদিকদের দিপকে বলেন, ‘সরকার যদি এই আন্দোলনের সমাধান চায়, তাহলে একমাত্র পথ হলো ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।’
নিজের অবস্থান আরও জোরালো করে তিনি বলেন, ‘আমরা পিছু হটব না। পদত্যাগের কম কিছুই গ্রহণযোগ্য নয়।’
২৬ দিনের অনশন ভেঙে দেওয়া সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক যদি আন্দোলন প্রত্যাহারের আহ্বান জানান, সেক্ষেত্রে কী করবেন- এমন প্রশ্নের জবাবেও নেতিবাচক অবস্থান নেন দিপকে।
তার ভাষায়, ‘এই আন্দোলন এখন আর শুধু অভিজিৎ দিপকে বা সোনম ওয়াংচুকের নয়। এটি সারা দেশের তরুণদের আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। তাই পদত্যাগ ছাড়া অন্য কিছু গ্রহণযোগ্য নয়।’
প্রথমে সরকার আলোচনার জন্য কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে.পি. নাড্ডার সরকারি বাসভবনকে ভেন্যু হিসেবে প্রস্তাব করেছিল। তবে সিজেপি জানিয়ে দেয়, যন্তর মন্তরের আন্দোলনস্থল অথবা নিরপেক্ষ কোনো স্থানে বৈঠক না হলে তারা আলোচনায় বসবে না।
শেষ পর্যন্ত সরকার অবস্থান পরিবর্তন করলে বৈঠকটি নয়াদিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাব অব ইন্ডিয়ায় অনুষ্ঠিত হয়।
সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেন, ‘সরকার আমাদের দাবি মেনে নিরপেক্ষ স্থানে বৈঠকে রাজি হওয়ায় আমরা সন্তুষ্ট। আশা করি সরকার খোলা মনে জনগণের কথা শুনবে।’
গত ২০ জুলাই দুই পক্ষের প্রথম দফা বৈঠকে সিজেপির জাতীয় মুখপাত্র সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা জে.পি. নাড্ডার বাসভবনে সাক্ষাৎ করেছিলেন। পরে তারা অভিযোগ করেন, বৈঠকের সময় তাদের কার্যত ‘ভার্চুয়াল গৃহবন্দি’ করে রাখা হয়েছিল। এরপর থেকেই তারা ভবিষ্যতের সব আলোচনা নিরপেক্ষ স্থানে আয়োজনের দাবি জানিয়ে আসছিলেন।
এদিকে আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বৃহস্পতিবার সামাজিক মাধ্যমে বলেন, ‘দেশের তরুণদের কল্যাণ ও ভবিষ্যতের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর কিছু নেই।’ তিনি প্রশ্নপত্র ফাঁসের মামলার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের প্রতিশ্রুতি দেন।
তবে প্রধানমন্ত্রীর বার্তায় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ প্রসঙ্গে কোনো উল্লেখ ছিল না, যা আন্দোলনকারীদের অন্যতম প্রধান দাবি।
সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, ‘এই দেশে ফাস্ট-ট্র্যাক আদালতের ঘোষণা নতুন কিছু নয়। কিন্তু শিক্ষাব্যবস্থার কাঠামোগত সমস্যার সমাধান এটি নয়।’
আন্দোলনকারীদের প্রতি সরকারের আরেকটি পদক্ষেপ হিসেবে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব বিনীত জোশিকে সরিয়ে পঞ্চায়েতি রাজ মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়। একই সঙ্গে স্কুল শিক্ষা ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের শীর্ষ পদে নতুন কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং সিবিএসই বোর্ড পরীক্ষার মূল্যায়নে অনিয়মের অভিযোগে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে রয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাতে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী মোদি জানান, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে শুক্রবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে একটি আইন চূড়ান্ত করা হবে। আগামী সপ্তাহেই এ-সংক্রান্ত কঠোর শাস্তির বিধান রেখে একটি বিল সংসদে উত্থাপন করা হবে বলেও জানান তিনি।
এদিকে সিজেপির আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে ভারতের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোও। তারাও প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি জানিয়ে আসছে।