
মহাগ্রন্থ আল কোরআন মানবজাতির হেদায়েতের জন্য এক আলোকবর্তিকা। আল্লাহতায়ালা বলেছেন, ‘এটা সে কিতাব; যাতে কোনো সন্দেহ নেই, মুত্তাকিদের জন্য হেদায়েত।’ (সুরা আল-বাকারা: ২)
আল্লাহতায়ালার এই কোরআন সর্বাধিক পবিত্র ও সর্বোচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন। তাই কোরআনের পবিত্রতা ও মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখার জন্য পবিত্রতা শর্তারোপ করা হয়েছে। যেন কোরআন স্পর্শ করার ও তা পাঠ করার ক্ষেত্রে কোনো অসম্মান প্রকাশ না পায়। অতএব অজুবিহীন কোরআনুল কারিম স্পর্শ করা জায়েজ নেই।
আল্লাহতায়ালা বলেন, তাকে (কোরআন) যারা পবিত্র কেবল তারাই স্পর্শ করবে। এটি বিশ্বজগতের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ।( সুরা আল-ওয়াকিআহ: ৭৯-৮০)
অনুরূপভাবে এ বিষয়ে একাধিক বিশুদ্ধ হাদিস রয়েছে। আব্দুল্লাহ বিন ওমর (রা.) বলেছেন, পবিত্র ব্যক্তি ছাড়া কেউ কোরআন স্পর্শ করবে না। (আস-সুনানুল কুবরা, বাইহাকি: ৪১৭)
আবদুল্লাহ বিন আবু বকর বিন হাযম বলেন, রাসুল (সা.) আমর বিন হাযম এর কাছে এই মর্মে চিঠি লিখেছিলেন যে, পবিত্র হওয়া ছাড়া কোরআন কেউ স্পর্শ করবে না।’ (মুয়াত্তা মালিক, হাদিস: ৬৮০)
তবে এ বিধান নাবালেগ বা অপ্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। কেননা শিশু বালেগ হওয়ার আগ পর্যন্ত তার ওপর শরিয়তের কোনো বিধান আরোপ হয় না। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তিন ব্যক্তির ওপর থেকে (দায়িত্বের) কলম উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে,
সুতরাং নাবালেগ শিশু অজু ছাড়া কোরআন ধরলে তার কোনো প্রকারের গোনাহ হবে না। তবে বড়দের উচিত, শিশুকে এই শিক্ষা দেওয়া যে, কোরআন অজু ছাড়া ধরা যায় না। যাতে এটা তাদের অভ্যাসে পরিণত হয়ে যায়, তারা এ ব্যাপারে যত্নবান হয় এবং কোরআনের সম্মান ও ভালোবাসা তাদের অন্তরে সৃষ্টি হয়। (আদ্দুররুল মুখতার: ১/৩৪৯, রদ্দুল মুহতার: ১/৩৪৯, আল ফাতাওয়াল হিন্দিয়া: ১/৩৯, ফাতহুল কাদির: ১/১৭৩, ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া: ৭/১১৪)