
নিজস্ব প্রতিবেদক // ভোলার মনপুরায় একই দিনে তিন শিশুর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিখোঁজ শিশুদের মধ্যে দুজন উপজেলার উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের বাংলাবাজার কলেজ মাঠ থেকে এবং অন্যজন ঢাকার যাত্রাবাড়ীর একটি মাদ্রাসা থেকে নিখোঁজ হয়েছে বলে তাদের পরিবার নিশ্চিত করেছে।
নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সন্তানদের কোনো সন্ধান না পেয়ে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন স্বজনরা।
শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুর ২টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ তিন শিশুর মধ্যে দুজন উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের এবং অপরজন একই ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা।
নিখোঁজ শিশুরা হলো—উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মো. নাজিমুদ্দিন মঞ্জুর ছেলে মো. জুনায়েদ (১২), একই এলাকার মো. নাজিমুদ্দিনের ছেলে আরাফাত (১২) এবং ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মো. কামালের ছেলে হাবিবুর রহমান (১৩)।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গতকাল উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের বাংলাবাজার কলেজ মাঠে খেলতে যায় জুনায়েদ ও আরাফাত। খেলা শেষে সন্ধ্যা পেরিয়ে গেলেও তারা আর বাড়িতে ফিরে আসেনি। এরপর পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িসহ বিভিন্ন সম্ভাব্য স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাদের কোনো সন্ধান পাননি।
জুনায়েদের বাবা মো. নাজিমুদ্দিন মঞ্জু বলেন, ‘গতকাল আমার ছেলে জুনায়েদ ও তার খেলার সাথী আরাফাত বাংলাবাজার কলেজ মাঠে খেলতে যায়। এরপর থেকে তারা আর বাসায় ফেরেনি। আমরা সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেছি, কিন্তু কোথাও তাদের সন্ধান মেলেনি।’
অন্যদিকে, নিখোঁজ হাবিবুর রহমানের বাবা মো. কামাল জানান, তার ছেলে ঢাকার যাত্রাবাড়ীর মুরাদপুর ‘মাদরাসাতুল দারুল কুরআন’ মাদ্রাসায় পড়াশোনা করে। গতকাল সন্ধ্যায় মাগরিবের নামাজ পড়তে যাওয়ার পর থেকে সে আর মাদ্রাসায় ফিরে আসেনি।
তিনি অত্যন্ত উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘মাগরিবের নামাজ পড়তে যাওয়ার পর থেকে আমার ছেলে আর মাদ্রাসায় ফেরেনি। বিভিন্ন স্থানে খোঁজ নিয়েও তার কোনো সন্ধান আমরা পাইনি। আমরা খুবই উদ্বিগ্ন। কোনো সহৃদয় ব্যক্তি যদি আমার ছেলের সন্ধান পেয়ে থাকেন, তবে দয়া করে আমাদের জানাবেন।’
এ বিষয়ে মনপুরা থানার ওসি মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘শিশু নিখোঁজের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো অভিভাবক থানায় লিখিত বা মৌখিকভাবে জানাননি। তবে বিষয়টি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খোঁজ নিয়ে দেখছি।’
নিখোঁজ ওই তিন শিশুর কোনো সন্ধান পেয়ে থাকলে অবিলম্বে তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।