
এস. এম. সাইফুল ইসলাম কবির, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার, বাগেরহাট // বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার ৪৯ নম্বর সুরশাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেও বারান্দায় পাঠদান চালিয়ে যেতে হচ্ছে। সোমবার ভোর থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত এলাকাজুড়ে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত ও দমকা হাওয়া বইতে থাকে। ভারী বৃষ্টিপাত এবং দমকা হাওয়ার মধ্যেই বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ক্লাস অনুষ্ঠিত হয়।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন-সংলগ্ন এ জনপদে নিম্নচাপের প্রভাবে বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করছিল। এমন পরিস্থিতিতে বিদ্যালয়ের বারান্দায় এক হাতে ছাতা ধরে এবং অন্য হাতে কলম নিয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করেন সহকারী শিক্ষক লিলি মজুমদার। এ সময় বাতাসে উড়ে আসা বৃষ্টির পানিতে অনেক শিক্ষার্থী ভিজে যায়। বারান্দার পাশে টানানো পলিথিনও তাদের রক্ষা করতে পারেনি। দমকা হাওয়ায় কয়েকজন শিক্ষার্থীর বই-খাতাও ভিজে যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৫২ সালে প্রতিষ্ঠিত সুরশাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে পরিচালিত হয়ে আসছে। সম্প্রতি নতুন ভবন নির্মাণের পর পুরোনো ভবনটি নিলামে বিক্রি করা হয়। ভবনটি অপসারণের পর বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষ সংকট দেখা দেয়। ফলে দুই শিফটে পরিচালিত বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির পাঠদান বারান্দায় নিতে হচ্ছে।
তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী তাসকিন ও আরাফাত জানায়, শ্রেণিকক্ষের অভাবে তাদের রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে বারান্দায় ক্লাস করতে হয়, যা অত্যন্ত কষ্টকর।
সহকারী শিক্ষক লিলি মজুমদার বলেন, “শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে বাধ্য হয়ে বারান্দায় ক্লাস নিতে হচ্ছে। নতুন ভবনের দ্বিতীয় তলায় একটি কক্ষ নির্মাণ করা হলে এ সমস্যার সমাধান হতো।”
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কল্যাণী রানী বাড়ই জানান, বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক ও শ্রেণিকক্ষ সংকট রয়েছে। বিষয়টি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
চিতলমারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অচ্যুতানন্দ দাস বলেন, “বরাদ্দ না থাকায় সমস্যাটির স্থায়ী সমাধান করা যাচ্ছে না। আপাতত অন্য একটি বিদ্যালয় থেকে একটি টিনশেড কক্ষ এনে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।