
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান কায়া কালাস শুক্রবারের এই হামলাকে ‘পরিকল্পিত সন্ত্রাস’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি জানান, আগামী মাসে আয়ারল্যান্ডে ইউরোপীয় মন্ত্রীরা বৈঠকে বসলে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সবচেয়ে ব্যাপক নিষেধাজ্ঞার তালিকা প্রস্তাব করবেন।
কালাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বলেন, ক্রিভি রিহের একটি শপিং সেন্টারে রাশিয়ার হামলা মস্কোর যুদ্ধের ‘চরম নৃশংসতা’ প্রকাশ করে। তার দাবি, রাশিয়া ইউক্রেনের শহরগুলোকে বসবাসের অনুপযোগী করে তুলতে চায়।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে রাশিয়ার বোমাবর্ষণ আরও তীব্র হয়েছে। এর মধ্যেই দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় মাইকোলাইভ অঞ্চলে আরেকটি হামলায় তিন শিশুসহ আরও চারজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইভান ভিহিভস্কি।
ক্রিভি রিহের হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ভবনের বাইরে আহতদের উদ্ধারে ছুটে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। ভবনটি থেকে তখন ধোঁয়া বের হচ্ছিল।
প্রথম ড্রোন হামলার প্রায় আধা ঘণ্টা পর দ্বিতীয় একটি ড্রোন ভবনের ছাদে আঘাত হানে। জেলেনস্কি বলেন, দ্বিতীয় হামলাটি ছিল উদ্ধারকর্মীদের লক্ষ্য করে চালানো ‘পুনরায় হামলা’।
ইউক্রেনের জরুরি পরিষেবা বিভাগ প্রথমে জানিয়েছিল, হামলায় ১৫ জন নিহত ও ১৩০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ২৩ জন ছিল শিশু। পরে দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের সামরিক প্রশাসনের প্রধান ওলেক্সান্ডার গানজা জানান, নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে দাঁড়িয়েছে।
জেলেনস্কি এক্সে দেওয়া এক পোস্টে হামলাটিকে ‘সাধারণ একটি শপিং সেন্টারের ওপর রাশিয়ার চালানো সম্পূর্ণ নির্লজ্জ ও ঘৃণ্য হামলা’ বলে নিন্দা করেন।
ক্রিভি রিহ একটি শিল্পনগরী, যা যুদ্ধক্ষেত্রের সম্মুখসীমা থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে শহরটি রাশিয়ার বারবার হামলার শিকার হয়েছে।
এদিকে ইউক্রেনের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সোমবার দেশটির মিত্ররা কিয়েভে বৈঠকে বসবেন। তথাকথিত ‘কোয়ালিশন অব দ্য উইলিং’-এর এই বৈঠকে ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করা হবে। বৈঠকে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম এবং জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মের্ৎস যৌথভাবে সভাপতিত্ব করবেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানা গেছে, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রধান আন্তোনিও কোস্তাসহ প্রায় ১০ জন নেতা কিয়েভে ওই বৈঠকে অংশ নেবেন।
জেলেনস্কি ইউক্রেনের মিত্রদের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আগ্রাসীর বিরুদ্ধে প্রকৃত চাপ সৃষ্টি এবং জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।
শুক্রবার জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গেও ফোনে কথা বলেন জেলেনস্কি। এ সময় তিনি রাশিয়ার সাম্প্রতিক হামলা ও এতে বেসামরিক নাগরিকদের হতাহতের বিষয়টি জাতিসংঘ প্রধানকে জানান।
রাশিয়া হামলা বাড়িয়ে দেওয়ায় ইউক্রেন দীর্ঘদিন ধরেই মিত্রদের কাছে অতিরিক্ত সহায়তা চেয়ে আসছে। বিশেষ করে ব্যাপক আকারে ছোড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে ইউক্রেনীয় বাহিনীকে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে।