আকস্মিক ভাঙ্গনে নদী তীরের কয়েকটি পরিবার বসতভিটা হারিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন। ভাঙনের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসমা উল হুসনা। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘুরে দেখেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর হাতে জরুরি খাদ্যসামগ্রী তুলে দিয়েছেন।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) বিকেলে স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ আগস্ট বিকেলে নদীতীরের প্রায় ১০০ ফুট এলাকায় ফাঁটল দেখা দেওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই প্রায় ৫০ ফুট সড়কসহ একের পর এক বসতঘর নদীগর্ভে চলে যায়। পরিস্থিতি এতো দ্রুত অবনতি হয় যে, অনেকেই ঘরের মালামাল সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ পায়নি।

ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, কয়েকদিন ধরে চলা বৃষ্টির মধ্যে নদীর পানি বাড়তে থাকায় তীরের মাটিতে ধসের সৃষ্টি হয়। পরে আকস্মিক ভাঙনে চোখের সামনে তাদের বসতঘর, গাছপালা ও ফসলি জমি হারাতে হয়েছে। বর্তমানে অনেকে খোলা আকাশের নিচে কিংবা স্বজনদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য জামাল হোসেন পুতুল বলেন, আড়িয়াল খাঁ নদীর হঠাৎ ভাঙনে মোহাম্মদ কলম সরদার, আজহার মোল্লা, মতলব হাওলাদার, হাকিম হাওলাদার, মোহাম্মদ হাসিব, সুফিয়া বেগম, কালাম সরদার ও সামসু হাওলাদারসহ বেশ কয়েকটি পরিবারের ঘরবাড়ি ও জমি নদীতে চলে গেছে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ইউএনও আসমা উল হুসনা বলেন, আড়িয়াল খাঁ নদীতে আকস্মিক ভাঙনের খবর পাওয়ার পর পরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তাৎক্ষণিক প্রয়োজন বিবেচনায় খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। ভাঙন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

অপরদিকে ভাঙন অব্যাহত থাকলে লোহালিয়া গ্রামের আরও বসতভিটা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। তারা দ্রুত নদীতীর রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।