
নেশনস লিগের এ গ্রুপে ইতালির শুরুটা হয়েছিল হতাশাজনকভাবে। ঘরের মাঠে বেলজিয়ামের কাছে ২-০ গোলে হারের পর তুরস্ককে ৪-১ গোলে হারিয়ে ঘুরে দাঁড়ায় তারা। এরপর ফ্রান্সের মাঠে ১-১ গোলে ড্র করে আত্মবিশ্বাস বাড়ায় দলটি। এবার বোলোনিয়ার স্তাদিও দাল্ল’আরায় তুরস্ককে হারিয়ে সেই ধারাই ধরে রাখল ইতালি।
এই ম্যাচে মূল একাদশে নয়টি পরিবর্তন আনেন ইতালির কোচ রবার্তো মানচিনি। কেবল আলেসান্দ্রো বাস্তোনিই আগের ম্যাচের একাদশ থেকে জায়গা ধরে রাখেন। চোটের কারণে ছিলেন না মোইসে কিন। আর আন্তোনিও ভেরগারা ও ইসা দুমবিয়া প্রথমবারের মতো জাতীয় দলের হয়ে শুরুর একাদশে সুযোগ পান।
অন্যদিকে টানা তিন ম্যাচে হেরে মাত্র একটি গোল করা এবং আটটি গোল হজম করা তুরস্কের কোচ ভিনচেনজো মন্তেলার ওপরও চাপ বাড়ছিল। এর মধ্যে জুভেন্টাসের কেনান ইলদিজ, ইন্টার মিলানের হাকান চাহানোলু ও চোটের কারণে জান উজুনকে হারায় তুরস্ক। নিষেধাজ্ঞার কারণে খেলতে পারেননি বারিস আলপার ইলমাজ। রিয়াল মাদ্রিদের তরুণ তারকা আরদা গুলেরও ছিলেন না।
ম্যাচের শুরুতেই ইতালিকে চাপে ফেলে তুরস্ক। ওজান কাবাকের নিচু শটটি কোনোমতে কাছের পোস্টের গোড়া ঘেঁষে বাইরে পাঠান ইতালির গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মা। পরে নিকোলো বেরেলার ভুলে পাওয়া সুযোগে ইউনুস আকগুনের হেডও সামলে দেন তিনি।
২৩ মিনিটে গোলের দেখা পেয়েছিল ইতালি। তবে অফসাইডের কারণে জিয়ানলুকা স্কামাক্কার গোলটি বাতিল হয়। কিছুক্ষণ পর অবশ্য আর ভুল করেননি তিনি। জিওভান্নি দি লোরেঞ্জোর ক্রস নামিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে বল তুরস্কের রক্ষণভাগের খেলোয়াড় ওজান কাবাকের কাঁধে লেগে স্কামাক্কার সামনে চলে আসে। ছয় গজ দূর থেকে দারুণ ভলিতে বল জালে পাঠান তিনি। বলটি ক্রসবারের নিচের অংশে লেগে জালে জড়ায়।
গোল খেয়েও বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে তুরস্ক। গোলমুখে আরাল সিমশিরের হেড থেকে পাওয়া সুযোগটি দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন জিয়ানলুকা মানচিনি। পরে বদলি হিসেবে নামা পিও এসপোসিতোর থ্রু পাসে গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন দুমবিয়া। তবে তুরস্কের গোলরক্ষক উগুরচান চাকির পা বাড়িয়ে বিপদ সামাল দেন।
দ্বিতীয়ার্ধে প্রাপ্য সমতা ফিরিয়ে আনে তুরস্ক। জেকি চেলিক বাইলাইন থেকে বল পেছনে বাড়ালে এরেন এলমালি সেটি বাড়িয়ে দেন। অরক্ষিত অবস্থায় থাকা আরাল সিমশির কাছ থেকে বল পেয়ে কাছের পোস্টের দিক দিয়ে জালে পাঠান। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ তখন অনেকটাই তুরস্কের হাতে।
তবে সমতা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। চার মিনিটের মধ্যেই আবার এগিয়ে যায় ইতালি। বেরেলার ফ্রি কিক দূরের পোস্টে গিয়ে পৌঁছায় বদলি হিসেবে নামা রিকার্দো কালাফিওরির কাছে। দারুণ হেডে বল জালে পাঠান তিনি। জাতীয় দলের হয়ে এটি আর্সেনালের এই রক্ষণভাগের খেলোয়াড়ের প্রথম গোল। এলমালিকে ফাউল করার অভিযোগে তুরস্কের আপত্তি থাকলেও ভিডিও সহকারী রেফারির পর্যালোচনায় গোলটি বহাল থাকে।
এরপর তুরস্ক আবার সমতায় ফেরার চেষ্টা করে। ইউনুস আকগুনের বাড়ানো বলে ইসমাইল ইউকসেকের শট নেওয়ার মুহূর্তে আন্তোনিও ভেরগারা দারুণভাবে বাধা দেন। পরে সালিহ ওজকানের জোরালো শটও ক্রসবারের নিচ থেকে উড়ে গিয়ে হাত দিয়ে ঠেকান দোন্নারুম্মা।
ম্যাচের শেষ দিকে তৃতীয় গোল করে জয় নিশ্চিত করে ইতালি। দুমবিয়ার শট প্রতিহত হওয়ার পর আলেসান্দ্রো রোমানোর নেওয়া পরের শটটি অসাবধানতাবশত পিও এসপোসিতোর সামনে চলে যায়। মাত্র কয়েক গজ দূর থেকে বল জালে পাঠিয়ে ইতালির জয় নিশ্চিত করেন তিনি।
শেষ দিকে দুমবিয়াও নিজের গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠেন। তবে কঠিন কোণ থেকে নেওয়া তার শটও তুরস্কের গোলরক্ষক ঠেকিয়ে দেন।
অন্য ম্যাচে বেলজিয়ামকে ৪-১ গোলে হারিয়ে ফ্রান্স ঘুরে দাঁড়ানোয় সাত পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ এ-তে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে ইতালি। শীর্ষে থাকা ফ্রান্সের পয়েন্ট ১০।