1. faysal.rakib2020@gmail.com : admin :
  2. thelabpoint2022@gmail.com : Rifat Hossain : Rifat Hossain
এশিয়ান গেমসের ফাইনালে ভারত-পাকিস্তান - বাংলার কন্ঠস্বর ।। Banglar Konthosor
শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫৫ অপরাহ্ন
নোটিশ :
বিভিন্ন জেলা,উপজেলা-থানা,পৈারসভা,কলেজ পর্যায় সংবাদকর্মী আবশ্যক ।

এশিয়ান গেমসের ফাইনালে ভারত-পাকিস্তান

  • প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬
  • ২০ 0 বার সংবাদি দেখেছে
স্পোর্টস ডেস্ক // শিরোপা ধরে রাখার মিশনে এশিয়ান গেমসের পুরুষ ক্রিকেটের ফাইনালে উঠেছে ভারত। বৃহস্পতিবার নিশিনে সেমিফাইনালে শ্রীলংকাকে ১২৪ রানে হারিয়ে সোনার পদকের ম্যাচ নিশ্চিত করেছে তারা। শ্রীলংকার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এটিই ভারতের সবচেয়ে বড় জয়।

এক দিন আগে গুয়াহাটির ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৪০৬ রানের লক্ষ্য অনায়াসে পেরিয়ে গিয়েছিল ভারতের ওয়ানডে দল। তার পরদিন কঠিন ও ফাটলধরা উইকেটে টি-টোয়েন্টি দলকে ১৬৯ রান তুলতেই বেশ লড়াই করতে হয়েছে। তবে এরপর ভারতের বোলারদের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি শ্রীলংকা।

এই জয়ের ফলে ২০২৬ সালে প্রথমবারের মতো ভারত ও পাকিস্তানের ফাইনাল লড়াই দেখবে ক্রিকেট বিশ্ব। আগামী ফাইনালে সোনার পদকের জন্য মুখোমুখি হবে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী।

ভারতের ইনিংসে ঈশান কিষান বেশ কয়েকটি উঁচু শট ভুলভাবে খেলেও ভাগ্য সহায় হওয়ায় বেঁচে যান। তার বেশির ভাগ শটই ফিল্ডারদের নাগালের বাইরে পড়ে। ৫৬ রানে থাকা কিষানকে অবশ্য একবার জীবন দেন নুয়ানিদু ফার্নান্দো। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে মাত্র ৪৬ বলে অপরাজিত ৮০ রান করেন কিষান।

উইকেটে কয়েকটি বল অস্বাভাবিকভাবে আচরণ করছিল। শ্রীলংকার ইনিংসে সেটিই বড় বিপদের ইঙ্গিত হয়ে দেখা দেয়।

রান তাড়ায় শ্রীলংকার ব্যাটারদের জন্য ম্যাচটি ছিল কঠিন পরীক্ষার মতো। জসপ্রিত বুমরাহ অনেকটা টেস্ট ম্যাচের দৈর্ঘ্যে বল করে ব্যাটারদের বিপাকে ফেলেন। অক্ষর প্যাটেল ১৪টি ডট বল করেন এবং ২ উইকেট নেন। শেষ পর্যন্ত ভারতের বোলাররা দলীয় হ্যাটট্রিকও করেন।

এর সঙ্গে শ্রীলংকার তিন ব্যাটার রানআউট হন, যার মধ্যে প্রথম চার ব্যাটারের দুজন ছিলেন। শেষ পর্যন্ত মাত্র ৪৫ রানে অলআউট হয়ে যায় শ্রীলংকা। এশিয়ান গেমসের পুরুষ ক্রিকেটে এটি দ্বিতীয় সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহ। পুরুষদের টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পূর্ণ সদস্য কোনো দলের সর্বনিম্ন সংগ্রহের সঙ্গেও এটি যৌথভাবে অবস্থান করছে। ২০১৯ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজও ৪৫ রানে অলআউট হয়েছিল।

ভারত একাদশে চারজন স্পিনার নিয়ে খেলেছিল। শ্রীলংকার দলে ছিল তিনজন স্পিনার। বৃষ্টির কারণে কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ায় এই ম্যাচ দিয়েই এশিয়ান গেমসে প্রথমবার মাঠে নামে শ্রীলংকা।

ভারতের কৌশল যে কার্যকর ছিল, তা স্পিনারদের বোলিংয়েই স্পষ্ট। ম্যাচে মোট ১৭৯ বলের মধ্যে ১৪৯টি করেছেন স্পিনাররা। মোট ২৯.৫ ওভারের খেলায় স্পিনাররা ১২টি উইকেট নেন, ৭৩টি ডট বল করেন এবং ওভারপ্রতি ৬.৫৬ রান দেন। পেসাররা ৩০ বলে ৪৪ রান দেন। এর মধ্যে বুমরাহর অবদান ২ ওভারে মাত্র ৭ রান দিয়ে ২ উইকেট।

ম্যাচের শুরু থেকেই বোলারদের আধিপত্য দেখা যায়। দিনের দ্বিতীয় ম্যাচেও আবহাওয়া শেষ পর্যন্ত বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি।

ভারতের দুই ব্যাটার অভিষেক শর্মা ও সঞ্জু স্যামসন অফ সাইডে আক্রমণাত্মক শট খেলতে গিয়ে আঙুলের স্পিনে আউট হন। স্যামসন জায়গা তৈরি করে কভারের ওপর দিয়ে বল পাঠাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু থারিন্দু রত্নায়েকে বলটিতে বড় ধরনের টার্ন করিয়ে তাকে বোল্ড করেন।

এরপর শান আরাচ্চিগে অভিষেককে শর্ট থার্ডে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন। পরে শ্রেয়াস আইয়ারকে আউট করার সময়ও বলটি দারুণভাবে কাজ করে। ভেতরের দিকে ঢুকে নিচে নেমে ব্যাটারকে সামনে টেনে নিয়ে পরে ঘুরে স্টাম্পে আঘাত করে বলটি।

রান তাড়ায় শুরুতেই বুমরাহকে আক্রমণ করতে গিয়ে বিপদে পড়েন সিনেথ জয়াবর্ধনে। ভেতরে ঢুকে আসা বলে লাইনের বিপরীতে শট খেলতে গিয়ে প্যাডে আঘাত লাগে। এরপর সোহান ডি লিভেরাও বুমরাহর ওপর থেকে আসা তীব্র কোণ তৈরি করা বলে ব্যাট ছুঁইয়ে উইকেটরক্ষকের হাতে ক্যাচ দেন।

পুরুষদের টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথমবার কোনো রান দেওয়ার আগেই দুটি উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়ে ভারত।

বুমরাহর দ্বিতীয় ওভারের পঞ্চম বলটি উইকেটে পড়ে হঠাৎ লাফিয়ে ওঠে এবং পিচ থেকে বাড়তি গতি পায়। বলটি ধরতে স্যামসনকে অনেকটা লাফ দিতে হয়। তবে ব্যাটার নুয়ানিদু ভাগ্যবান ছিলেন, বলটির লাইন আরও সোজা ছিল না।

বুমরাহর হুমকি থাকা সত্ত্বেও এরপর আর পেসার ব্যবহার করেনি ভারত। এর আগে রবি বিষ্ণোইয়ের দুর্দান্ত ফিল্ডিংয়ে লাসিথ ক্রুসপুলে রানআউট হন। আর অক্ষরকে সুইপ করতে গিয়ে শান আরাচ্চিগে ও আশেন বান্দারা নিজেদের উইকেট বিলিয়ে দেন।

শ্রীলংকা ৫ উইকেটে ১৮ রানে থাকার সময় ওয়াশিংটন সুন্দরকে বোলিংয়ে আনা হয়। তবে নুয়ানিদু তাকে ভয় পাননি। প্রথম বল বড় টার্ন নিলেও লেগ সাইড দিয়ে বেরিয়ে যায়। পরের তিন বলে দুটি ছক্কা হাঁকান তিনি। দ্বিতীয় ছক্কাটি ছিল দারুণ নিয়ন্ত্রিত শট, বল চলে যায় লং-অনের ওপর দিয়ে।

এরপর শর্ট থার্ডে অপ্রয়োজনীয় এক রান নিতে গিয়ে নুয়ানিদু রানআউট হন। সেখান থেকেই ম্যাচে শ্রীলংকার ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা কার্যত শেষ হয়ে যায়।

ব্যাটিংয়ের জন্য খুব কঠিন উইকেটেও ঈশান কিষান ও বৈভব সূর্যবংশী নিজেদের শক্তির জায়গা কাজে লাগিয়ে ভারতকে ভালো সংগ্রহ এনে দেন।

সূর্যবংশী বারবার অফ সাইড খুলে খেলেছেন। কখনো জায়গা তৈরি করে, কখনো জায়গায় দাঁড়িয়েই বল সীমানায় পাঠিয়েছেন। থারিন্দু রত্নায়েকের এক ওভারে চার, ছক্কা ও চার মেরে ভারতের ৫০ রান পূর্ণ করেন তিনি। এরপর অভিষেকের মতো একই ধরনের শটে আরাচ্চিগের বলে আউট হন। ২১ বলে ৩৮ রান করেন সূর্যবংশী।

কিষান তার ইনিংস শুরু করে প্রথম ১২ বলেই দুটি ছক্কা হাঁকান। খারাপ বলের অপেক্ষায় ছিলেন তিনি এবং সুযোগ পেলেই কাজে লাগিয়েছেন। তবে শ্রেয়াস আইয়ার আউট হওয়ার পর এবং অক্ষরকে তিলক বর্মার আগে ব্যাটিংয়ে পাঠানো হলেও তিনি আটকে যাওয়ায় কিষানকে আরও ঝুঁকি নিতে হয়েছে।

আরাচ্চিগের লেগ স্টাম্পের লাইনের বল রিভার্স সুইপ করে সীমানায় পাঠিয়ে নিজের আক্রমণাত্মক সামর্থ্য দেখান কিষান।

অক্ষর ও তিলক দ্রুত আউট হলেও কিষানের সঙ্গে কার্যকর জুটি গড়ে ভারতের রান একশ ছাড়িয়ে দেন। বোলারদের ভুল করতে বাধ্য করে ৩৩ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করেন কিষান।

এর পরের দুই বলেই দুবার আউট হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল তার। একটি বল অস্বাভাবিকভাবে প্রায় সমকোণে ঘুরে গেলেও বেঁচে যান তিনি। এরপর মিডঅফে নুয়ানিদুর হাতে ক্যাচও হতে পারতেন, কিন্তু ক্যাচটি হাতছাড়া হয়।

শেষ আট ওভারে ভারত চারটি ছক্কা ও চারটি চার মারে। শেষ ছক্কাটি ছাড়া বাকি সবগুলোই আসে কিষানের ব্যাট থেকে। শেষ ছক্কাটি মারেন ওয়াশিংটন সুন্দর।

তাতেই ৭ উইকেটে ১৬৯ রান সংগ্রহ করে ভারত। সাধারণ অবস্থায় এটি ভালো সংগ্রহ, তবে এদিনের কঠিন উইকেট বিবেচনায় ১৬৯ রান ছিল যেন প্রায় দ্বিগুণ সমমানের সংগ্রহ।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Comments are closed.

‍এই ক্যাটাগরির ‍আরো সংবাদ
Theme Customized By BreakingNews