
গৌরনদী প্রতিনিধি // একটি ধর্ষণ মামলা ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে বরিশালের গৌরনদীতে। মামলার আসামি গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যাওয়ার পর এখন মামলাটি আপস-মীমাংসার জন্য বাদীকে চাপ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বাদিনীর দাবি, আপসে রাজি না হওয়ায় তাঁকে হুমকি ও গালিগালাজের পাশাপাশি সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে তাঁর বিরুদ্ধে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ তুলে তাঁকে নতুন করে আইনি ও সামাজিক চাপে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। ঘটনার সূত্রপাত গত বছর। বার্থী ইউনিয়নের পশ্চিম বার্থী এলাকার তিন সন্তানের জননী ওই নারীর অভিযোগ, তাঁর স্বামী সৌদি আরবে থাকার সুযোগে প্রতিবেশী হালিম সন্ন্যামাত তাঁকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ফাঁদে ফেলেন। পরে মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরের একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে প্রায় দুই মাস ২২ দিন আটকে রেখে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয় বলে তাঁর অভিযোগ। বাদিনীর ভাষ্য, এর আগে তাঁকে ভয় দেখিয়ে ও ভিডিও ধারণ করে ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। পরে নানা চাপের মুখে তিনি বাবার বাড়িতে ফিরে এসে আইনের আশ্রয় নেন। এ ঘটনায় বরিশাল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন তিনি। আদালতের নির্দেশে বরিশাল পিবিআই মামলাটি তদন্ত করে। বাদিনীর দাবি, তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্রও দাখিল করা হয়েছে। মামলার পর আত্মগোপনে চলে যান আসামি হালিম সন্ন্যামাত। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গৌরনদী থানা পুলিশ মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর থানা পুলিশের সহযোগিতায় ১ মে দিবাগত রাতে দোকাছি গ্রামের একটি ভাড়া বাসা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে তিনি বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন বলে জানান বাদিনী। এরপরই মামলাটি ঘিরে নতুন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর। বাদিনীর দাবি, আসামির স্বজনরা তাঁকে মামলাটি আপস-মীমাংসা করার জন্য চাপ দিচ্ছেন। এতে রাজি না হওয়ায় অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ ও জীবননাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। বাদিনী আরও বলেন, “আমি মামলাটি আপস করতে রাজি না হওয়ায় এখন আমার বিরুদ্ধেই ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ তোলা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আমাকে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের মিথ্যা কথা প্রচার করা হচ্ছে। আমি চাই, প্রকৃত ঘটনা তদন্ত করে দেখা হোক এবং আমাকে যেন কোনোভাবে হয়রানি করা না হয়।” এ ঘটনায় গৌরনদী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি। অভিযোগের পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে বলেও জানান বাদিনী। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে হালিম সন্ন্যামাতের পরিবারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বক্তব্য জানতে তাঁর বাড়িতে গেলে ঘর তালাবদ্ধ পাওয়া যায় এবং পরিবারের কাউকে সেখানে পাওয়া যায়নি। গৌরনদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তারিক হাসান রাসেল বলেন, “মামলার বাদীকে কেউ হয়রানি করলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।