
নিজস্ব প্রতিবেদক।।
রাজশাহীর দুর্গাপুরে একটি সরকারি কলেজে ইসলামী জলসা ও মসজিদের অনুদান চাওয়াকে কেন্দ্র বিএনপি নেতার সঙ্গে এক কলেজ শিক্ষিকার হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় দলীয় নেতাকর্মীদের হামলায় অধ্যক্ষসহ অন্তত পাঁচজন শিক্ষক গুরুতর আহত হয়েছেন।
gnewsদৈনিক ইত্তেফাকের সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) উপজেলার দাউকান্দি সরকারি ডিগ্রি কলেজে এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জয়নগর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. এজদার ও ২ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি আকবর আলীসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাকের কক্ষে যান। সেখানে তারা স্থানীয় মসজিদের উন্নয়ন ও জলসার দাওয়াত কার্ড দিয়ে অনুদান চান। এ সময় কথাবার্তার দৃশ্য নিজ মোবাইল ফোনে ভিডিও করতে শুরু করেন ইংরেজি বিভাগের শিক্ষিকা আলিয়া খাতুন।
বিএনপি নেতারা ভিডিও করতে নিষেধ করলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে জয়নগর ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি জয়নাল আবেদীন শিক্ষিকা আলিয়া খাতুনের মুঠোফোন কেড়ে নিতে বলেন। আফাজ উদ্দিন তার মুঠোফোন কেড়ে নিতে যান। তখন আলিয়া তাকে থাপ্পড় মারেন। এর পরপরই ক্ষিপ্ত হয়ে আকবর আলী নিজের পায়ের স্যান্ডেল খুলে ওই শিক্ষিকাকে জুতাপেটা করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এই ঘটনার কিছুক্ষণ পর আকবর আলীর নেতৃত্বে ৪০ থেকে ৫০ জন নেতাকর্মী পুনরায় লাঠিসোঁটা নিয়ে কলেজে প্রবেশ করেন। হামলাকারীরা ডিগ্রি পরীক্ষা চলাকালীন ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে কলেজটিতে ভাঙচুর চালায় এবং অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক ও শিক্ষিকা আলিয়া খাতুনসহ শিক্ষকদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। এতে অধ্যক্ষ ও ওই শিক্ষিকাসহ পাঁচ জন আহত হন। পরে তাদের উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ভুক্তভোগী শিক্ষকদের অভিযোগ, হামলার সময় পুলিশ উপস্থিত থাকলেও তারা কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।
দুর্গাপুর থানার ওসি পঞ্চনন্দ সরকার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, জলসার দাওয়াত দিতে গিয়ে বাকবিতণ্ডা থেকে মারামারির সূত্রপাত হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়ের হয়নি। তবে পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।