1. faysal.rakib2020@gmail.com : admin :
  2. thelabpoint2022@gmail.com : Rifat Hossain : Rifat Hossain
দক্ষিণাঞ্চলে সারা বছর উৎপাদন হবে লেবু - বাংলার কন্ঠস্বর ।। Banglar Konthosor
রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:৫৫ পূর্বাহ্ন
নোটিশ :
বিভিন্ন জেলা,উপজেলা-থানা,পৈারসভা,কলেজ পর্যায় সংবাদকর্মী আবশ্যক । 01711073884

দক্ষিণাঞ্চলে সারা বছর উৎপাদন হবে লেবু

  • প্রকাশিত : শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬
  • ১৯ 0 বার সংবাদি দেখেছে
একই গাছে একসঙ্গে ঝুলছে ছোট, মাঝারি ও পরিপক্ব লেবু। পাশেই ফুটেছে ফুল, কোথাও দেখা যাচ্ছে মুকুল। কোনো ডালে ফল পাকছে, আবার কোনো ডালে নতুন করে ফল ধরছে। বছরের বিভিন্ন সময়ে একই গাছে এমন দৃশ্য দেখা যায়।বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) বরিশাল উপকেন্দ্রে দেখা মিলেছে এমন জাতের লেবু গাছের। এটি বিনা উদ্ভাবিত বিনা-১ সিডলেস বারোমাসি লেবু।

বিনা-১ জাতের লেবুর বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো- একই সময়ে গাছে ফুল, মুকুল ও বিভিন্ন বয়সের ফল থাকে। ফলে সারা বছরই গাছ থেকে লেবু সংগ্রহ করা সম্ভব।

দক্ষিণাঞ্চলে লেবুর মৌসুমি সংকট ও দাম বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা কমাতে এ জাতের চাষ সম্প্রসারণে কাজ করছে  বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) বরিশাল উপকেন্দ্র।

বিনা রহমতপুর উপকেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল বিভাগের ছয় জেলায় (বরিশাল,পটুয়াখালী, বরগুনা, ঝালকাঠি, পিরোজপুর ও ভোলা) এ জাতের লেবুর চাষ সম্প্রসারণে চলতি বছর ৬ হাজার চারা বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বরিশাল জেলায় ১০টি প্রদর্শনী স্থাপন করা হবে। প্রতিটি প্রদর্শনীতে ৫০টি করে চারা ও সার দেওয়া হবে। বাকি চারাগুলো বিভাগের ছয় জেলার কৃষকদের মধ্যে পর্যায়ক্রমে বিতরণ করা হচ্ছে। এ ছাড়াও কৃষকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কাটিং ও কলম পদ্ধতিতে চারা উৎপাদনের কৌশল শেখানো হচ্ছে। প্রশিক্ষণ নিয়ে কৃষকদের অন্য কৃষকদের মধ্যেও এ জাতের চাষ ছড়িয়ে দিতে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

গত বছরও ৫ হাজার বিনা-১ জাতের লেবুর চারা বিতরণ করা হয়েছিল।

কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রমজান মাসে লেবুর চাহিদা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বেড়ে যায়। তবে চাহিদার সঙ্গে সরবরাহ না বাড়ায় এ সময় বাজারে দামও বাড়ে। অনেক সময় চারটি লেবুর এক হালি কিনতে ৬০ থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত গুনতে হয় ক্রেতাদের। সারা বছর লেবু উৎপাদন করা গেলে মৌসুমি সংকট কমানো সম্ভব। বিশেষ করে একই গাছে বিভিন্ন সময়ে ফুল ও ফল আসায় বারোমাসি লেবুর জাত কৃষকদের জন্য সম্ভাবনাময় হতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

রহমতপুর উপকেন্দ্রে সরেজমিনে দেখা গেছে, এ জাতের চারা উৎপাদনের জন্য মাতৃগাছের বাগান করা হয়েছে। সেখান থেকে কলম ও কাটিং পদ্ধতিতে চারা উৎপাদন করা হচ্ছে। পরে বরিশাল বিভাগের ছয় জেলার কৃষকদের মধ্যে পর্যায়ক্রমে এসব চারা বিতরণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি চাষপদ্ধতি ও পরিচর্যা সম্পর্কে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

কৃষকদের মধ্যে বিনা-১ লেবুর চাষ বাড়ানো গেলে দক্ষিণাঞ্চলে লেবুর উৎপাদন বাড়বে। একই সঙ্গে সারা বছর বাজারে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত লেবুর সরবরাহ নিশ্চিত করার সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে বিনা কর্তৃপক্ষ।

বাবুগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুর রউফ বলেন, বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত বিনা-১ বারোমাসি লেবুর জাতটি নিয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরও কাজ করছে। এ জাতের চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে কৃষকরা বছরের বিভিন্ন সময়ে লেবু উৎপাদন ও বাজারজাত করতে পারবেন। এতে কৃষকের আয় বাড়ার পাশাপাশি স্থানীয় বাজারে লেবুর সরবরাহও বাড়বে।

বিনার বরিশাল উপকেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. ছয়েমা খাতুন বলেন, বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের ধারাবাহিক সাফল্যের একটি হলো বিনা-১ জাতের বারোমাসি লেবু। গবেষণায় সাফল্যের পর জাতটি কৃষক পর্যায়ে বিস্তার ঘটাতে কাজ করছি আমরা। বিনা-১ সিডলেস বারোমাসি লেবু এমন একটি জাত, যাতে বছরের বিভিন্ন সময়ে ফুল ও ফল পাওয়া যায়। দক্ষিণাঞ্চলের কৃষকদের মধ্যে এ জাতের চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে সারা বছর লেবুর উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, লেবুর মৌসুমি সংকট ও মূল্যবৃদ্ধি কমানোর পাশাপাশি কৃষকদের লাভবান করার লক্ষ্যেই আমরা এ জাতের চারা সম্প্রসারণ করছি। বরিশাল বিভাগের ছয় জেলার কৃষকদের মধ্যে চারা বিতরণের মাধ্যমে ধীরে ধীরে এর বিস্তার ঘটানো হচ্ছে।

কৃষকদের মধ্যে বিনা-১ লেবুর চাষ বাড়লে ভবিষ্যতে দক্ষিণাঞ্চলের বাজারে সারা বছর স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত লেবুর সরবরাহ বাড়বে। এতে রমজানসহ চাহিদা বৃদ্ধির সময়ে লেবুর সংকট ও অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Comments are closed.

‍এই ক্যাটাগরির ‍আরো সংবাদ
Theme Customized By BreakingNews