
নিজস্ব প্রতিবেদক।।
দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে মো. মোহন তালুকদার (২৫) নামে এক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তিনি মোহনগঞ্জ পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক পদে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) মোহনগঞ্জ পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. রফিকুল ইসলাম (মানিক) এবং সদস্য সচিব নাজমুল হুদা খান পাঠান (বাবু) স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
অব্যাহতি পাওয়া মোহন তালুকদার মোহনগঞ্জ পৌরশহরের দৌলতপুর এলাকার আবুল কালাম আজাদের ছেলে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা ও গঠনতন্ত্র পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট অভিযোগে তাকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হলো।
এ বিষয়ে মোহনগঞ্জ পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব নাজমুল হুদা খান পাঠান (বাবু) বলেন, দলের গঠনতন্ত্রের পরিপন্থি সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই তাকে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় এমন কোনো কাজ করলে ভবিষ্যতে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
এদিকে, মোহনগঞ্জে ১০ বছর বয়সের এক শিশু সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মোহন তালুকদারের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় আদালতের নির্দেশে মামলা রেকর্ড হওয়ার দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
মামলার এজাহার, আদালতের নথি এবং ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শিশুটির বাবা জীবিকার তাগিদে দেশের বিভিন্ন এলাকায় দিনমজুরের কাজ করেন। মা স্থানীয়ভাবে বাসাবাড়িতে কাজ করে তিন মেয়েকে নিয়ে সংসার চালান। মামলায় শিশুটিকে কিছুটা মানসিক প্রতিবন্ধী বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৯ ডিসেম্বর দুপুরে শিশুটির মা কাজের জন্য বাইরে গেলে ঘরে শিশুটি ও তার ছোট দুই বোন ছিল। এ সময় প্রতিবেশী মোহন তালুকদার ঘরে প্রবেশ করে শিশুটিকে ধর্ষণ করেন। বিষয়টি কাউকে জানালে প্রাণে মেরে ফেলা এবং সংঘবদ্ধ ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হয়। ভয়ে শিশুটি ঘটনাটি দীর্ঘদিন গোপন রাখে।
ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, চলতি বছরের ১২ মার্চ শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে এবং তার শারীরিক অবস্থায় অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে সন্দেহ হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে সে ধর্ষণের ঘটনার কথা জানায়। পরদিন একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আলট্রাসনোগ্রাফি করালে রিপোর্টে ১৩ সপ্তাহের গর্ভধারণের তথ্য পাওয়া যায়। ১৫ মার্চ অন্য একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারেও একই ধরনের রিপোর্ট আসে।
এদিনই আইনি পদক্ষেপ নিতে পরিবারটি মোহনগঞ্জ থানায় গেলে আদালতে অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় বলে দাবি তাদের। পরে পরিবারের লোকজন ও স্থানীয়দের সঙ্গে পরামর্শ করে শিশুটির মা বাদী হয়ে গত ২৮ এপ্রিল আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন। পরে আদালত মোহনগঞ্জ থানাকে মামলাটি রেকর্ড করে প্রয়োজনায় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশনার পর ২ মে ধর্ষণের অভিযোগে মামলাটি রেকর্ড করা হয়।
এদিকে মামালার পর অভিযুক্ত মোহন তালুকদার পলাতক থাকায় তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে মোহনগঞ্জ থানার ওসি মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন বলেন, মামলার পর থেকেই মোহন তালুকদার পলাতক রয়েছেন। মোবাইল ব্যবহার না করার কারণে তার অবস্থান শনাক্ত করা যাচ্ছে না। চারদিকে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। আশা করছি তাকে দ্রুতই গ্রেপ্তার করতে পারব।