1. faysal.rakib2020@gmail.com : admin :
  2. thelabpoint2022@gmail.com : Rifat Hossain : Rifat Hossain
সরকারি চাকরিতে শূন্যপদ ৪ লাখ ৬৮ হাজার: জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী - বাংলার কন্ঠস্বর ।। Banglar Konthosor
শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৪৫ পূর্বাহ্ন
নোটিশ :
বিভিন্ন জেলা,উপজেলা-থানা,পৈারসভা,কলেজ পর্যায় সংবাদকর্মী আবশ্যক । 01711073884

সরকারি চাকরিতে শূন্যপদ ৪ লাখ ৬৮ হাজার: জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী

  • প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৩৩ 0 বার সংবাদি দেখেছে

দেশের সব মন্ত্রণালয় ও সরকারি দপ্তর মিলিয়ে বর্তমানে ৪ লাখ ৬৮ হাজার ২২০টি শূন্য পদ রয়েছে বলে জাতীয় সংসদে তথ্য দিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারী।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সংসদে সরকারদলীয় সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে বিষয়টি উত্থাপন করা হয়।

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারি কর্মচারীদের হালনাগাদ তথ্যের ভিত্তিতে সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের সব মন্ত্রণালয় ও সরকারি অফিসে ৪ লাখ ৬৮ হাজার ২২০টি পদ শূন্য ছিল।

এই শূন্যপদের মধ্যে প্রথম শ্রেণির, অর্থাৎ প্রথম থেকে নবম গ্রেডে খালি রয়েছে ৬৮ হাজার ৮৮৪টি পদ। দ্বিতীয় শ্রেণির, অর্থাৎ দশম থেকে দ্বাদশ গ্রেডে শূন্যপদ ১ লাখ ২৯ হাজার ১৬৬টি।

এ ছাড়া ত্রয়োদশ থেকে ষোড়শ গ্রেডে শূন্য পদ রয়েছে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৭৯৯টি, সপ্তদশ থেকে বিংশতম গ্রেডে ১ লাখ ১৫ হাজার ২৩৫টি এবং অন্যান্য ৮ হাজার ১৩৬টি পদ শূন্য।

এসব শূন্য পদ পূরণে ছয় মাস, এক বছর ও পাঁচ বছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনা নেওয়ার কথা সংসদকে জানান প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ৬ মাসের মধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ২ হাজার ৮৭৯টি, ১ বছরের মধ্যে ৪ হাজার ৪৫৯টি এবং ৫ বছরের মধ্যে ৩ হাজার ১১০টি শূন্যপদে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।

আবদুল বারী বলেন, কর্মপরিকল্পনায় বর্ণিত ‘স্বচ্ছতা ও দ্রুততার সঙ্গে পাঁচ লাখ কর্মচারী নিয়োগ’ বিষয়ে অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও বিভাগের নিয়োগের সর্বশেষ অবস্থা এবং শূন্য পদে নিয়োগের তথ্য পাঠাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

বিরোধী দলের সংসদ সদস্য নূরুল ইসলামের এক প্রশ্নের জবাবে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, “মেরিটোক্রেসির বাংলাদেশ বিনির্মাণে মেধা, সততা, সৃজনশীলতা, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও প্রশিক্ষণ, বেসামরিক ও সামরিক প্রশাসনে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে যোগ্যতাই একমাত্র মাপকাঠি হিসাবে বিবেচনা করা হবে।”

তিনি বলেন, “কেউ যাতে অন্যায়ভাবে বঞ্চিত না হয়, সেটাও নিশ্চিত করা হবে। এতে সরকারি অর্থের অপচয়ও রোধ হবে।”

নূরুল ইসলামের আরেক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে ৯৩ শতাংশ পদ মেধাভিত্তিক।

বাকি পদগুলোর মধ্যে ৫ শতাংশ রাখা হয়েছে মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনার সন্তানদের জন্য, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য ১ শতাংশ এবং শারীরিক প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের জন্য ১ শতাংশ কোটা সংরক্ষিত আছে।

সরকারদলীয় সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের প্রশ্নের জবাবে আবদুল বারী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের গত ১৬ বছরে বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ১২ জন কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়, ৩৯ জনকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয় এবং ৫৬৪ জনকে ওএসডি করা হয়।

তিনি বলেন, “বিগত আওয়ামী লীগের সময় বিসিএস ক্যাডার নিয়োগে দুর্নীতি দলীয়করণের বিষয়ে দুদকসহ আইন প্রয়োগকারী সংস্থা অনুসন্ধান ও তদন্ত করছে। তদন্ত প্রতিবেদন ও সুপারিশ প্রাপ্তির পর আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

আরেক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিসিএসসহ অন্যান্য সরকারি চাকরির নিয়োগে প্রচলিত ‘মুখস্থনির্ভর’ সিলেবাসের পরিবর্তে দক্ষতাভিত্তিক মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু করা বর্তমান কমিশনের অন্যতম লক্ষ্য।

এ জন্য বিসিএস পরীক্ষার সিলেবাস পরিবর্তনে একটি কমিটি করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, কমিটি বিভিন্ন দেশের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার সিলেবাস পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধন ও সংযোজনের কাজ করছে।

মৌখিক পরীক্ষার ক্ষেত্রেও কমিশন অচিরেই ‘যোগ্যতাভিত্তিক’ সাক্ষাৎকার চালু করতে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, এতে প্রার্থীর জ্ঞান, দক্ষতা ও মনোভাব মূল্যায়ন করা হবে। পাশাপাশি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে এক বছরের মধ্যে একটি বিসিএস সম্পন্ন করার প্রক্রিয়া চলছে।

একই দিনে সংসদে পানি সম্পদমন্ত্রীও একাধিক প্রশ্নের জবাব দেন।

সরকারদলীয় সংসদ সদস্য হারুন অর রশিদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণে সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে প্রকল্পের ডিপিপি তৈরি করে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, প্রকল্পটির প্রস্তাবিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি ২৫ লাখ টাকা। বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছে ২০২৬ সাল থেকে ২০৩৩ সালের জুন পর্যন্ত।

সরকারদলীয় সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের প্রশ্নের জবাবে পানি সম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচির আওতায় ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ ও কৃষি মন্ত্রণালয় মিলে ১ হাজার ২০৪ কিলোমিটার খাল খনন বা পুনঃখনন করবে।

তিনি বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ও জুন ২০২৬ পর্যন্ত কাবিখা, কাবিটা ও টিআরের মাধ্যমে আরও ১ হাজার ৫০০ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন ও সংস্কার করবে।

মন্ত্রী জানান, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব খাল খনন কর্মসূচির আওতায় চলতি অর্থবছরে জুন ২০২৬ পর্যন্ত ৩৫৩ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের সংস্থান রয়েছে। এর মধ্যে গত ৩১ মার্চ পর্যন্ত ১২৩ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন শেষ হয়েছে।

এ হিসাবে দৃশ্যমান অগ্রগতি ৩৫ শতাংশ বলেও জানান তিনি।

আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে ২৯২ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ, ৩১৬ কিলোমিটার নদনদীর ড্রেজিং ও ডুবোচর অপসারণ, ৮০০টি পানি নিয়ন্ত্রণ অবকাঠামো নির্মাণ এবং ২৫০ কিলোমিটার নদীতীর প্রতিরক্ষা কাজ চলমান রয়েছে বলেও সংসদকে জানান পানি সম্পদমন্ত্রী।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Comments are closed.

‍এই ক্যাটাগরির ‍আরো সংবাদ
Theme Customized By BreakingNews