
নিজস্ব প্রতিবেদক // পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী রেঞ্জের মৌডুবি বিট কর্মকর্তা শোহেব খানের বিরুদ্ধে চর ইজারার নামের লাখ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) ভুঁইয়াকান্দা পালকি বাজারে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী জেলে ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
মানববন্ধনে ভুক্তভোগী বাদল হাওলাদার, মহসিন ভুঁইয়া, মনির তালুকদাসহ অর্ধশতাধিক জেলে তাদের অভিযোগ তুলে ধরেন। অভিযোগ পাওয়ার পর বন বিভাগ ইতোমধ্যে কর্মকর্তাকে বদলি করেছে বলে জানা গেছে।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বিট কর্মকর্তা চর হেয়ার, চর তুফানিয়া, চর তালুকদার, চর তালেব, চর বগলা, চর আশাবাড়িয়া, জাহাজমারা, চর তোফাজ্জেল, গ্যাপের চর, মৌডুবির ভাঙারখাল, কেউর হাওলা, কাজিকান্দাসহ নিজকাটা এলাকার নদী তীরবর্তী চরের অববাহিকায় প্রায় ৬০ কিলোমিটার দীর্ঘ স্ট্রিপ বনায়ন (বেড়িবাঁধ বনাঞ্চল) ইজারা দেওয়ার নামে প্রতারণা করেছেন। অর্ধ শতাধিক জেলের কাছ থেকে ৩০ লাখ টাকা নিয়েছেন। চর ও নদীর মোহনায় ইলিশ, কোরাল, চিংড়ি ও বিভিন্ন সামুদ্রিক মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন জেলেরা অথচ এ সাগরের জেগে উঠা চরগুলো ইজারার নামে লাখ লাখ টাকা নিয়েছেন বিট কর্মকর্তা শোয়েব খান।
তারা বলেন, একটি চর দেওয়ার নামে অন্তত ২ থেকে ৫ জনের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন। স্থানীয় জেলে মহসীন ভুঁইয়ার কাছ থেকে দেড় লাখ, বাদল হাওলাদারের কাছ থেকে ১ লাখ ১০ হাজার, মিজানুর ভুঁইয়ার কাছ থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার, মনির তালুকদারের কাছ থেকে ১ লাখ ৩২ হাজার, কালাম ভুঁইয়ার কাছ থেকে ৬০ হাজার, নজরুল হাওলাদারের কাছ থেকে ৭০ হাজার, মোশাররফের (হাফেজকান্দা) কাছ থেকে আশারবাড়িয়ার চরের জন্য ২ লাখ ২০ হাজার, মোশারফ মাতব্বরের কাছ থেকে খাল দেওয়ার নামে ২৫ হাজার, ইলিয়ার পাটোয়ারির কাছ থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার, মহিবুল্লাহ ভুঁইয়ার কাছ থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা নিয়েছেন। এছাড়া অন্য জেলেদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা নিয়ে চর দিয়েছেন এ কর্মকর্তা।
মানববন্ধনে সামসুল আলম হাওলাদারের ছেলে শামীম হাওলাদার বলেন, বিট কর্মকর্তা শোয়েব খান ১ লাখ টাকা নিছে চর তালুকদার দেবে বলে। সরকারি হিসাব তো আমরা বুঝি না। উনি তো আমাদের বোকা বানিয়েছে। একই চর দেখিয়ে একাধিক লোকের কাছে লাখ লাখ টাকা নিয়েছে। গোপনে বন কর্মকর্তা ১ লাখ, দেড় লাখ, দুই লাখ এমনকি তিন লাখ টাকা পর্যন্ত নিয়েছে।
মানববন্ধনে আরেক জেলে বলেন, আমি সুদে টাকা নিয়ে এসে ৬০ হাজার টাকা দিছি। যদি টাকা না দিই তাহলে বলে যে গাছ কাটার মামলা দেবে, বিষ দেওয়ার মামলা দেবে। বিভিন্ন ভয় দেখিয়ে কায়দা করে টাকাগুলো নিয়ে গেছে।
৬নং মৌডুবির ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের মহসিন ভুঁইয়ার কাছে থেকে বিট কর্মকর্তা শোহেব খান নিয়েছেন মোট সাড়ে ৩ লাখ। প্রথমে দেড় লাখ পরে ২ লাখ। তিনি বলেন, আমরা মাছ ধরেই খাই। আমার কাছে টাকা নিয়েছে মোট সাড়ে ৩ লাখ টাকা। চর তুফানিয়া দেবে বলে টাকা নিছে প্রথমে দেড় লাখ, পরে ২ লাখ। আমার জানা আছে, একই চরের জন্য বাদল হাওলাদারের কাছ থেকেও টাকা নিছে। আমরা এখন চাই, চর যেহেতু দিতে পারেনি তাহলে টাকা ফেরত দিক।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মৌডুবি বিট কর্মকর্তা শোহেব খান বলেন, যেসব চর যাকে দেওয়ার কথা ছিল তাদেরকে সেসব চর দেওয়া হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কোনো কর্মকর্তাকে টাকা দেওয়ার কথা নাই। আর আপনারা যা খুশি করেন।
রাঙ্গাবালী রেঞ্জ কর্মকর্তা আমির হোসেন বলেন, জেলেরা যদি কর্মকর্তাকে ঘুষ দিয়ে থাকেন তাহলে অন্যায় করেছেন। ঘুষ দেওয়া-নেওয়া সমান অপরাধ। বন বিভাগ তার অপরাধ জানার পর তাকে সরিয়ে দিয়েছে। আমার হাতে বিট কর্মকর্তার অনিয়মের অভিযোগ আসার পর আমি তাকে সরিয়ে দিই। টাকা যদি জেলেরা পায় তাহলে তার কাছে ব্যক্তিগতভাবে আদায় করবে আর বন আইনে যে শাস্তির বিধান রয়েছে সেটাই করা হবে।
জানতে চাইলে উপকূলীয় অঞ্চলের (বরিশাল) বন সংরক্ষক ড. মোল্যা রেজাউল করীম বলেন, আমার কাছে টাকা নেওয়ার কোনো অভিযোগ আসেনি।