
২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের পর গত আগস্টে আর্জেন্টিনার হয়ে খেলা থেকে অবসরের ঘোষণা দেন মেসি। এর আগে বাবা হোর্হে মেসির মৃত্যুর পর ফুটবলে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়েও ভাবছিলেন তিনি।
৩৯ বছর বয়সী মেসি ২০২২ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে নেতৃত্ব দিয়ে শিরোপা জিতিয়েছিলেন। জাতীয় দলের হয়ে খেলা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত তাকে ‘গভীরভাবে’ কষ্ট দিয়েছে জানিয়ে মেসি বলেছিলেন, ‘আমি আমার সবটুকু দিয়েছি। আমার আর দেওয়ার মতো কিছু অবশিষ্ট নেই।’
আটবারের বর্ষসেরা ফুটবলার মেসি বর্তমানে ইন্টার মায়ামির হয়ে খেলছেন। আর্জেন্টিনার হয়ে তিনিই সর্বোচ্চ গোলদাতা ও সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা ফুটবলার। জাতীয় দলের জার্সিতে ২০৭ ম্যাচে তার গোল ১২৫টি।
আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া বলেন, ‘আমরা বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়, আমাদের জাতীয় দলের প্রতীক ও অধিনায়ক লিওনেল আন্দ্রেস মেসিকে আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আগামী ৬ অক্টোবর আর্জেন্টিনার মাটিতে তিনি যেন প্রাপ্য বিদায় নিতে পারেন, সেটিই আমাদের লক্ষ্য।’
আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনস আয়ার্সের রিভার প্লেটের এস্তাদিও মনুমেন্তালে অনুষ্ঠিত হবে ম্যাচটি। প্রায় ৮৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার এই মাঠেই বেনিনের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা।
২০২২ বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টিনা দলের সদস্যদেরও ম্যাচটিতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তাপিয়ার ভাষায়, দিনটি হবে ‘ভুলে যাওয়ার মতো নয়’ এমন একটি আয়োজন।
বিশ্বকাপে ফিফার শৃঙ্খলাবিধি ভঙ্গের কারণে আর্জেন্টিনাকে নিজেদের পরবর্তী দুটি ঘরের ম্যাচ ৫০ শতাংশ দর্শক নিয়ে খেলতে বলা হয়েছিল। তবে শাস্তির একটি ম্যাচ স্থগিত করা হয়েছে।
বিশ্বকাপ চলাকালে ক্রীড়া আয়োজনকে ক্রীড়াবহির্ভূত প্রদর্শনের কাজে ব্যবহার, দলের অসদাচরণ এবং সমর্থকদের বৈষম্যমূলক স্লোগান ও অঙ্গভঙ্গির কারণে এই শাস্তি দেওয়া হয়।
ইংল্যান্ডকে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ২-১ গোলে হারানোর পর আর্জেন্টিনার কয়েকজন খেলোয়াড় একটি ব্যানার তুলে ধরেছিলেন। সেখানে ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রিত ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের ওপর আর্জেন্টিনার সার্বভৌমত্বের দাবি জানানো হয়েছিল।
৩০ সেপ্টেম্বর কর্দোবারে বলিভিয়া এবং ৩ অক্টোবর বুয়েনস আয়ার্সে বুরকিনা ফাসোর বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা। ফলে বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচের আগেই শাস্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার কথা।
তবে বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচে আর্জেন্টিনার দুই গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় লেয়ান্দ্রো পারেদেস ও নাহুয়েল মোলিনা খেলতে পারবেন না বলেই ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের পর মাঠের সংঘর্ষে জড়ানোর কারণে পারেদেসকে ১০ ম্যাচ এবং মোলিনাকে সাত ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে।