
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর দুমকির ২৩টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় ৮০৭ জন। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৫০৭ জন। অন্যদিকে, মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে ৫৬৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৩৬০ জন। অর্থাৎ মাধ্যমিক ও মাদ্রাসা পর্যায় মিলিয়ে মোট ৮৬৭ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে। এর বিপরীতে কলেজ ও সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর আসনসংখ্যা তুলনামূলক বেশি।
ফল প্রকাশের পর থেকেই শিক্ষার্থী ভর্তিতে মাঠে নেমেছেন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা। কয়েকটি দলে ভাগ হয়ে তারা প্রতিদিন উপজেলার বিভিন্ন এলাকার শিক্ষার্থীদের বাড়িতে যাচ্ছেন। সেখানে নিজেদের প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার পরিবেশ, সুযোগ-সুবিধা ও বিভিন্ন ইতিবাচক দিক তুলে ধরে ভর্তি হওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করছেন।
একাধিক প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক একই শিক্ষার্থীর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করায় অনেক অভিভাবকও পড়েছেন দ্বিধায়।
অভিভাবক সেতারা বেগম বলেন, কয়েকটি কলেজের শিক্ষক তাদের বাড়িতে এসে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়ার জন্য অনুরোধ করেছেন। পরিচিত শিক্ষক হওয়ায় কাউকে না বলাও কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে সন্তানকে কোথায় ভর্তি করবেন, তা নিয়ে তারা কিছুটা চিন্তায় রয়েছেন।
দুমকী উপজেলায় একটি সরকারি কলেজের পাশাপাশি মহিলা কলেজ, সাধারণ কলেজ, কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও মাদ্রাসা রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, সরকারি জনতা কলেজে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ তুলনামূলক বেশি হওয়ায় অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থী ভর্তিতে চাপ তৈরি হয়েছে।
আজিজ আহমেদ ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক মো. এবাদুল হক বলেন, তাদের কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ৪৫০টি আসন রয়েছে। বিপরীতে এ পর্যন্ত আবেদন জমা পড়েছে মাত্র ৪১টি। শেষ পর্যন্ত আবেদনকারীদের সবাই ভর্তি হবে কি না, সেটিও নিশ্চিত নয়। ফলে শিক্ষার্থী সংকট নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন।
শুধু সাধারণ কলেজ নয়, কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও একই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা জানান, কারিগরি শিক্ষার সুযোগ ও ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের বিষয়গুলো শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরা হলেও অনেকেই সাধারণ কলেজে ভর্তির দিকেই বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে।
এর মধ্যে পটুয়াখালী সদর উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা দুমকীর শিক্ষার্থীদের নিজেদের প্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য যোগাযোগ করায় প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এদিকে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে ভর্তির এসএমএস ঘিরে। স্থানীয়ভাবে অভিযোগ উঠেছে, কিছু প্রতিষ্ঠান এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের রোল ও নিবন্ধন নম্বর ব্যবহার করে তাদের অনুমতি ছাড়াই এইচএসসি বা আলিমে ভর্তির এসএমএস পাঠিয়েছে।
এতে পছন্দের প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়ার ক্ষেত্রে কিছু শিক্ষার্থী ও অভিভাবক বিড়ম্বনায় পড়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টদের দাবি, প্রতিবছর আসন নির্ধারণের সময় সংশ্লিষ্ট এলাকার সম্ভাব্য শিক্ষার্থীসংখ্যা বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। শিক্ষার্থীর তুলনায় আসন বেশি থাকলে একদিকে যেমন প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অস্বাভাবিক প্রতিযোগিতা তৈরি হয়, অন্যদিকে অনেক প্রতিষ্ঠান আর্থিক ও প্রশাসনিক সংকটে পড়ে।
তাদের মতে, বর্তমান বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কলেজ ও সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর আসন পুনর্বিন্যাস করা প্রয়োজন। প্রয়োজন অনুযায়ী আসনসংখ্যা কমানো গেলে এ ধরনের সংকট কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পছন্দের বিষয়, শিক্ষার মান এবং প্রতিষ্ঠানের সুযোগ-সুবিধার ভিত্তিতে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনার পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, শিক্ষার্থীর সংখ্যা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আসনসংখ্যার মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সমন্বয় না করা হলে ভবিষ্যতে এ সংকট আরও বাড়তে পারে। এতে একদিকে অনেক আসন খালি পড়ে থাকবে, অন্যদিকে শিক্ষার্থী ধরে রাখতে প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতাও আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।