
সাভারের আশুলিয়ায় চলন্ত বাসে নারী পোশাক শ্রমিককে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে আজিজুল শিকদার ওরফে রাজু নামের এক বাসচালককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (১৯ জুলাই) আশুলিয়া থানার ওসি তরিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে শনিবার (১৮ জুলাই) সাভারের রাজ ফুলবাড়িয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার বাসচালক আজিজুল শিকদার ওরফে রাজু (৩৭) গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার হরিণহাটি এলাকার বাসিন্দা। তিনি সাভারের রাজ ফুলবাড়িয়া এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে ইতিহাস পরিবহন’র বাস চালাতেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী নারী আশুলিয়ার ইপিজেড-১ এলাকার একটি তৈরি পোশাক কারখানায় জুনিয়র অপারেটর হিসেবে কর্মরত। গত ১২ জুলাই রাতে নিজ জেলা দিনাজপুর থেকে কর্মস্থলে ফিরছিলেন তিনি। রাত তখন আনুমানিক সাড়ে ১২টা। চন্দ্রা চৌরাস্তায় নেমে তিনি আশুলিয়াগামী ‘ইতিহাস পরিবহন’র একটি লোকাল বাসে ওঠেন।
শ্রীপুর বাসস্ট্যান্ড ও ইপিজেড এলাকার মধ্যবর্তী একটি নির্জন স্থানে পৌঁছালে বাসের হেলপার ওই নারীর ওপর চড়াও হয় এবং জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। চালক আজিজুল শিকদার ওরফে রাজু তখন বাস চালাতে চালাতেই হেলপারকে সহযোগিতা করছিল। কোনো উপায় না দেখে, সম্ভ্রম ও জীবন বাঁচাতে চলন্ত বাসের দরজা দিয়ে অন্ধকার সড়কে লাফিয়ে পড়েন ওই নারী। চলন্ত বাস থেকে ছিটকে পড়ে তার মুখমণ্ডলসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। পরে অন্য একটি বাসের সহায়তায় তিনি আশুলিয়া এলাকায় পৌঁছান এবং আত্মীয়দের সহায়তায় থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।
অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে মাঠে নামে আশুলিয়া থানা পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার এক সপ্তাহ পর সাভার মডেল থানার রাজ ফুলবাড়িয়া এলাকা থেকে মূল অভিযুক্ত চালক আজিজুল শিকদার ওরফে রাজুকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করা হয়েছে। চালককে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে বাসটি জব্দ এবং ভুক্তভোগীর হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করেছে পুলিশ।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছে বাসের হেলপার। তাকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।