
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এই দেশটাকে পুনর্গঠন করতে চাই, সামনে এগিয়ে নিতে চাই। জনগণকে সঙ্গে নিয়েই দেশটাকে একদিন সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাব, ইনশাআল্লাহ।’
আজ সোমবার সকালে বরিশাল বিভাগের গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর ইউনিয়নে আয়োজিত ফ্যামিলি কার্ডের উপকারভোগীদের সঙ্গে মতবিনিময় ও কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর বরিশাল অঞ্চলে এটিই তার প্রথম সফর।
অনুষ্ঠানে গৌরনদী এলাকার প্রায় ৬০০ অসহায় ও দুস্থ পরিবারের মাঝে আনুষ্ঠানিকভাবে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হয় এবং প্রধানমন্ত্রী উপকারভোগী নারীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের খোঁজখবর নেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচনের আগে আমরা বলেছিলাম বিএনপি সরকার গঠন করলে সারাদেশে ৪ কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। আমরা আমাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু করে দিয়েছি।’
তিনি বলেন, ‘চলতি অর্থবছরে সারাদেশে ৪১ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। এজন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ঘোষিত বাজেটে বরাদ্দ রাখা হয়েছে।’
দেশের প্রত্যেক উপজেলায় ৭ হাজার পরিবারের নারী সদস্যরা ফ্যামিলি কার্ড পাবেন জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, আগামী পাঁচ বছরে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ক্রমান্বয়ে চার কোটি পরিবারের নারী সদস্যরা প্রত্যেকেই ফ্যামিলি কার্ড পেয়ে যাবেন।
বক্তব্যের একপর্যায়ে দেশের রাজনৈতিক দর্শন ও সরকারের মূল লক্ষ্য স্পষ্ট করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি সবসময় একটি কথা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি- বিএনপির সকল রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস এ দেশের সাধারণ জনগণ। জনগণের সমর্থন ও দোয়া যতক্ষণ আমাদের কাছে থাকবে, ততক্ষণ কোনো বাধাই আমাদের আটকাতে পারবে না। সমস্ত বাধা উপেক্ষা করে জনগণকে সাথে নিয়েই আমরা দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাব।’
দেশ পুনর্গঠনে জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ- এটাই আমাদের রাজনীতি। আমরা দেশে সব ধর্মের মানুষকে সাথে নিয়ে শান্তিতে বসবাস করতে চাই। কোনো ভেদাভেদ নয়, বরং মানবিকতার ভিত্তিতে বিচার করে আমরা নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলব।’
এর আগে সকাল ৫টা ৫৫ মিনিটে রাজধানীর গুলশান অ্যাভিনিউয়ের বাসভবন থেকে সড়কপথে বরিশালের উদ্দেশে রওনা দিয়ে সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর ইউনিয়নে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে নতুন খননকৃত সরিকল-বাটাজোর খালের দুই পাশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেওয়ার মধ্য দিয়ে তিনি তার দিনব্যাপী বরিশাল সফরের কর্মসূচি শুরু করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনসহ স্থানীয় নেতারা। এরপর প্রধানমন্ত্রী গৌরনদী থেকে বরিশালের উদ্দেশে রওনা হন। তিনি সেখানে ত্রিশ গোডাউনের বধ্যভূমি-সংলগ্ন সাগরদী খালপাড়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে যোগ দেবেন।