
নিজস্ব প্রতিবেদক // বর্তমানে তথ্যকে ফিল্টারিং করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
তিনি বলেন, “গণমাধ্যমকে দুই ধরণের লোক ব্যবহার করছে। একদল তথ্যের প্রবাহের মধ্যে বস্তুনিষ্ঠতা যাতে দূষিত না থাকে সেটাকে মোকাবিলার চেষ্টা করছেন, আরেকদল দূষিত করার জন্য সাংবাদিকতা করছেন।”
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন, “সাংবাদিকতা পেশার সংজ্ঞা নির্ধারণ করা দরকার। কোন সাংবাদিকতা ব্লাকমেইলিং আর কোন সাংবাদিকতা আমাদের অনিবার্য এটাকে ভাগাভাগি করতে না পারলে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতাকে পৃষ্ঠপোষকতা করতে পারব না। এই কাজ সরকার একা করতে পারবে না, আপনাদের অংশীদারিত্ব লাগবে।”
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, “সাংবাদিকতার মতো পেশাকে কাঠামোবদ্ধ করতে না পারার কারণে আমাদের সামনে আগে শুধু একটা চ্যালেঞ্জ ছিল ‘ফ্রিডম অফ প্রেস’, এখন কিন্তু তার চেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে গেছে ‘মিস ইনফরমেশন’।”
তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে এ পর্যন্ত আমি যাদেরকে সাক্ষাৎ করতে নিয়ে গিয়েছি বিশিষ্ট সম্পাদক, সাংবাদিক, পত্রিকার মালিকবৃন্দ, তারা সবাই প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন যে এই প্রথম সরকারের পক্ষ থেকে তারা কোনও চাপ অনুভব করেননি।”
মন্ত্রী বলেন, “এখন বড় বিপদ হচ্ছে একজন পেশাদার দায়িত্বশীল যোগ্য সাংবাদিক তিনি তার পেশায় সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে টিকে থাকতে পারবে কি পারবে না। অন্য একজন অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র নাগরিক যেমন অবসরকালীন জীবনযাপন করেন, তিনিও তেমন অবসরকালীন জীবন পাবেন কি পাবেন না। সাংবাদিকদের কল্যাণে কাজ করতে আপনাদের সকলের সহযোগিতা দরকার।”
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, “আমি মালিকপক্ষের সাথে ওয়েজবোর্ড নিয়ে কথা বলছি, সম্পাদকদের নিয়ে, সম্পাদকীয় নীতিমালা নিয়ে কথা বলছি, সাংবাদিক ইউনিয়নের সঙ্গে কথা বলছি। পত্রিকাগুলোতে যে সরকারি সুবিধা, বিজ্ঞাপন ও ক্রোড়পত্র বন্টন করা হয় সেই ক্ষেত্রে কোনো নীতিমালা নেই। টেলিভিশন জার্নালিজমে টিআরপির কোনো সাইন্টিফিক মেথড নেই, মাত্র কয়েকটি সেটবক্স দিয়ে একটা ফুল মিথ্যা হিসেব চালিয়ে দেওয়া হচ্ছে।”
তিনি বলেন, “পত্রিকার ছাপার সংখ্যার ব্যাপারে একটা মিথ্যা তথ্য দেওয়া হচ্ছে, মন্ত্রী বাহাদুর তার ক্ষমতার বলে সেটার সঙ্গে কোনো না কোনোভাবে যুক্ত হচ্ছেন। আনুষ্ঠানিকভাবে মিথ্যা বলার দায়িত্ব নিচ্ছেন। যে পত্রিকা ছাপে ১ লাখ, সেই পত্রিকাকে বলছে ১০ লাখ।”
মন্ত্রী বলেন, “আমরা বিজ্ঞাপন, মিডিয়া লিস্টিং, ক্রোড়পত্র বন্টন, টিআরপি, নিউজপেপার রেটিং পয়েন্টে আমরা হাত দিতে শুরু করেছি। এটা এমন নাজুক সংবেদনশীল ও জরুরি জায়গা যে এটাকে কাঠামোগতভাবে যদি দাঁড় করতে না পারি তাহলে জাতিকে অনেক খেসারত দিতে হবে। এই কাজটার সাথে সাংবাদিকরা ও মালিপক্ষরা জড়িত। একটা সাংবাদিকতার জগতের গুণগত পরিবর্তনের ফল জাতি পাবে শত শত বছর।”
তিনি আরও বলেন, “আমি যতটুকু সম্ভব আপনাদেরকে সাথে নিয়ে কাজ করব। সাংবাদিকদের কল্যাণ মানেই আমি মনে করি দেশের কল্যাণ ও জাতির কল্যাণ। যেকোনো কিছুর বিনিময়ে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতাকে টিকিয়ে রাখতেই হবে, প্রয়োজনে রক্তের বিনিময়ে, প্রয়োজনে জীবনের বিনিময়ে।”
সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল বাছিরের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন, ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য কাওছার হোসেন খন্দকার, বিএফইউজের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শাহজাহান সাজু ও বরিশাল জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আযাদ আলাউদ্দিন।