
নিজস্ব প্রতিবেদক।।
বিয়ের প্রলোভনে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে এক যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে তাকে।
মামলা দায়েরের প্রায় ১০ বছর পর সোমবার (১৩ জুলাই) বরিশালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মুহা. রাকিবুল ইসলাম দণ্ডাদেশ দিয়েছেন।
দণ্ডিত আল-আমিন হাওলাদার (৩৩) বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার মাধবপাশা ইউপির বরীন্দ্রনগর গ্রামের মৃত আইয়ুব আলী হাওলাদারের ছেলে। রায় ঘোষণার সময় সে আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
তথ্য নিশ্চিত করে আদালতের বেঞ্চ সহকারী আজিবর রহমান জানান, আদালতের রায়ে- ধর্ষণের ফলে জন্ম নেওয়া সন্তানের জৈবিক পিতা হিসেবে দণ্ডিতকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও শিশুর ভরণপোষণ দণ্ডিতদের সম্পত্তি থেকে আদায় করা এবং তার অবর্তমানে শিশুটির তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে থাকবেন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট। শিশু মরিয়মের জন্ম নিবন্ধনের জন্য দণ্ডিতের জাতীয় পরিচয়পত্র জমা নিয়ে কার্যক্রম সম্পন্নেরও নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
মামলার বরাতে বেঞ্চ সহকারী জানান, নানাবাড়ি বরীন্দ্র নগরে থেকে পড়াশোনা করত কলেজছাত্রী। নানার ঘরে টিভি দেখতে আসত আল-আমিন। ২০১৬ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি ছাত্রীকে ঘরে একা পেয়ে ধর্ষণ করে আল-আমিন। পরে বিয়ের প্রলোভনে আরও একাধিকবার ধর্ষণ করে। এতে ওই ছাত্রী গর্ভবতী হয়ে পড়লে বিষয়টি প্রকাশ পায়।
এ ঘটনায় ২০১৬ সালের ২৪ জুন ছাত্রীর মা বাদী হয়ে আল-আমিনকে আসামি করে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের এয়ারপোর্ট থানায় মামলা করেন। তদন্ত কর্মকর্তা, থানার উপ-পরিদর্শক বশির আহম্মেদ একই বছরের ৩১ জুলাই আল-আমিনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। বিচারক ১১ জনের সাক্ষ্য নিয়ে সোমবার দুপুরে এই রায় দিয়েছেন।