নিজস্ব প্রতিবেদক // গ্রীষ্মের দাবদাহে বরিশালে জনজীবনে যেখানে নাভিশ্বাস উঠেছে, সেখানে দুর্ভোগ আরও বাড়িয়েছে ঘন ঘন লোডশেডিং। এ পরিস্থিতিতে গরম থেকে বাঁচতে বরিশালে শহরে চাহিদা বেড়েছে কয়েকগুন চার্জার ফ্যানের। সকাল থেকে নগরীর কাটপট্টি ও র্গীজ্জা মহল্লার এলাকার ফ্যানের দোকানগুলোতে ভিড় বেড়েছে ক্রেতাদের।
সরেজমিন নগরীর কাটপাট্ট রোড ও গীর্জ্জা মহল্লা এলাকার ইলেকট্রনিক্সের দোকান গুলোতে গিয়ে দেখা যায়, ফ্যান বিক্রির প্রতিটি দোকানে ক্রেতাদের ভিড়। প্রকারভেদে একেকটি চার্জার ফ্যান ২০০০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ৫-৬ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
নগরীর জর্ডন রোর্ড এলাকার বাসিন্দা কবির সময়ের কন্ঠস্বরকের প্রতিবেদককে জানান, বর্তমানে বরিশালে যে অবস্থা বিদ্যুৎতের তাতে মানুষ মরতে সময় লাগবে না। কারন ‘গরমের ওপর কয়েকদিন ধরে দিনরাত লোডশেডিং। বাসায় বৃদ্ধ মা ও ছোট বাচ্চা আছে। অসনীয় গরমে খুব সমস্যা হচ্ছে। বাধ্য হয়ে চার্জার ফ্যান কিনতে হচ্ছে। কিন্তু গরমকে জিম্মি করে দাম অনেক বেশি নিচ্ছে দোকানদারা।’
বাংলা বাজার এলাকার মৌসুমী আক্তার নামে এক কলেজ ছাত্রী সময়ের কন্ঠস্বরকে জানান, বলেন, ‘আমরা গ্রামে থাকি। গ্রামে বিদ্যুৎ গেলে ২/৩ ঘন্টার আগে আসেনা। কিন্তু কলেজে ভর্তি হওয়ার পর বরিশালে থাকি। বরিশালে থেকে দেখলাম শহরের চেয়ে গ্রামই ভালো। এখানে দিনে রাইতে কতবার বিদ্যুৎ যায় তার হিসাব নেই। আর ২৪ ঘন্টার মধ্যে কয়ঘন্টা বিদ্যুৎ থাকে তা বলে কোন লাভ নেই। বাধ্য হয়ে চার্জার ফ্যান কিনতে এসেছি। অন্তত বাঁচতে তো হইবো।’ তবে চার্জার ফ্যানের যে দাম তাতে মনে কেনা অসম্ভব হতে পারে কেনা।
কাটপট্টি রোর্ডের ইলেকট্রনিক্স পন্য বিক্রেতা রাকিব বলেন, ‘এখনতো প্রচণ্ড গরম। সেজন্য প্রচুর পরিমাণে ফ্যান বিক্রি হচ্ছে। আগের তুলনায় অনেক বেশি বিক্রি বেড়েছে। আগে যেখানে দিনে ১০-১২টি ফ্যান বিক্রি হতো, সেখানে এখান বিক্রি হচ্ছে ৩০-৪০০টি।’
তিনি আরও বলেন সব জিনিস পত্রের সাথে ‘প্রতিটি ফ্যানে বেড়েছে দাম। বেশি দামে পাইকারিতে কেনা লাগছে। এজন্য কাস্টমারের কাছে আগের চেয়ে দাম বেশি রাখা হচ্ছে। পরিচিত যেসব কাস্টমার আছে তাদের সঙ্গে দাম বেশি রাখার কারণে সম্পর্ক নষ্ট হচ্ছে।’
র্গীজ্জা মহল্লা মার্কেট ফাতেমা ইলেকট্রনিক্স এর ম্যানেজার সময়ের কন্ঠস্বরকের বলেন, আমরা ঢাকার নবাবপুর সহ বিভিন্ন স্থান থেকে ফ্যান পাইকারি কিনে আনি। পাইকারিতে বাজারে প্রতিটি আইটেমের প্যানের দাম বেড়েছে। তাই আমাদের বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। এর কারনেই খুচরা বাজারে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। পাইকারি পর্যায়ে প্রতিটি ফ্যানের দাম ৫শ’ থেকে ১ হাজার টাকা বেড়েছে। ক্রেতাদের চাহিদা পূরণ করতে হিমশিম খাওয়া লাগতাছে।
তিনি আরো বলেন, অনন্য ফ্যানের চেয়ে কয়েকদিন ধরে চার্জার ফ্যানের বিক্রি বেড়েছে কয়েকগুন। তবে ছোট চার্জার ফ্যান বিক্রি হচ্ছে বেশি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিক্রেতা বলেন, এই তীব্র গরমে আর লোডশেডিংয়ের কারনে ফ্যান তৈরির কোম্পানীর থেকেই আমরা ‘প্রয়োজন ২০ পিস, পাচ্ছি ১০পিস। আমরা দাম বাড়াবো কি, কাস্টমাররাই নিজেরাই দাম বাড়িয়ে নিচ্ছে। কেউ একটি পণ্যের দামাদামি করতে নিলে আরেকজন এসে ২০০ টাকা বাড়িয়ে কিনে নিয়ে যাচ্ছে।’ তাই খুচরা মার্কেটে ফ্যানের দাম বেশি। তবে গত দুই সপ্তাহ ধরে ব্যাটারী চালিত চার্জার ফ্যানের বিক্রি বেড়েছে কয়েকগুন।
দাম নিয়ে ক্রেতাদের অসন্তোষের বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ইন্দ্রানী দাস সময়ের কন্ঠস্বরকে জানান, বলেন, এখন পর্যন্ত আমরা ইলেকট্রনিক্স পন্য উপর কোন অভিযান করছি না। তবে কোন ক্রেতার যদি কোন অভিযোগ থাকে বেশি দাম নেওয়ার তাহলে আমরা ওই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবো। বর্তমানে আমরা জ্বালানী তেল ও সোয়াবিন তেল এর উপরে সহ নিত্যপ্রয়োজনী পন্যের উপর অভিযান চলমান রয়েছে। তবে গরম বেড়ে যাওয়ার কারনে এবং ঘন ঘন লোডশেডিং হওয়ার কারনে ফ্যান সহ ইলেকট্রনিক্স পন্য বেশি দামে ব্যবসায়ীরা বিক্রি করে থাকে।
তিনি আরো বলেন, ফ্যানের বাজার এখনো পরিদর্শন করা হয়নি আমাদের। তবে ফ্যানের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি মনিটরিং করা হবে। পাশাপশি খুব শিগ্রহী ইলেকট্রনিক্সের দোকান গুলোতে অতিরিক্ত দামে ফ্যান বা ইলেকট্রনিক্স পন্য বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে কিনা সে বিষয়ে কঠোর অবস্থানে থাকবে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
বরিশাল রূপাতলী গ্রিড স্টেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী আক্তারুজ্জামান পলাশ সময়ের কন্ঠস্বরকে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি সাময়িক। তীব্র গরমে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এ সমস্যা তৈরি হয়েছে।
আমরা চাই না কোনো গ্রাহকের ভোগান্তি হোক। তবে এটা সাময়িক সমস্যা। আশা করি খুব শিগ্রহী এ সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে।