
গৌরনদী প্রতিনিধি // নব্বই বছরের বিধবা কুলসুম বেগমের অসহায়ত্বের খবর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছে গৌরনদী উপজেলা প্রশাসন। সন্ধ্যার পর বৃদ্ধার পরিবারের খোঁজ নিতে ছুটে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইব্রাহিম ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেহেদী হাসান। এ সময় পরিবারটির হাতে খাদ্যসহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়। একজন অসহায় বৃদ্ধার দুর্দশার খবর প্রশাসনের নজরে আসার পর দ্রুত সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার এ উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ে মানবিক প্রশাসনিক দায়িত্ববোধের দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। জানা যায়, ৯০ বছর বয়সী বিধবা কুলসুম বেগমকে ভিক্ষা করতে দেখে তাঁর দুরবস্থায় ব্যথিত হন স্থানীয় এক ব্যক্তি। নিজের সামর্থ্য সীমিত হলেও বৃদ্ধার কষ্টের কথা সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের মাধ্যমে তুলে ধরার উদ্যোগ নেন তিনি। তাঁর অনুরোধে প্রতিবেদক আহাদ তালুকদার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে সংবাদমাধ্যমে তুলে ধরেন। প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি গৌরনদী উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসে। এরপর আর কালক্ষেপণ না করে পরিবারটির খোঁজখবর নিতে এগিয়ে আসেন ইউএনও মো. ইব্রাহিম ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেহেদী হাসান। তাঁরা অসহায় পরিবারটির জন্য খাদ্যসহায়তার ব্যবস্থা করেন। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইব্রাহিম ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেহেদী হাসানের মানবিক উদ্যোগের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন বৃদ্ধার দুর্দশা তুলে ধরতে ভূমিকা রাখা ওই ব্যক্তি। একই সঙ্গে সংবাদটি প্রকাশ করে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণে ভূমিকা রাখায় প্রতিবেদক আহাদ তালুকদারকেও ধন্যবাদ জানান তিনি। তিনি বলেন, মানুষের পাশে দাঁড়াতে সব সময় অর্থ-সম্পদের প্রয়োজন হয় না; প্রয়োজন সদিচ্ছা, মানবিকতা ও দায়িত্ববোধ। নিজের সামর্থ্য সীমিত হলেও মানুষের কষ্ট উপেক্ষা করা যায় না। সব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব না হলেও অসহায় মানুষের দুর্দশা তুলে ধরে সহায়তার পথ তৈরি করার চেষ্টা করা যায়। কুলসুম বেগমের মতো কোনো মানুষ যেন বার্ধক্য ও অসহায়ত্বের কারণে ভিক্ষা করতে বাধ্য না হন—এমন প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।