
বরিশাল প্রতিনিধি।।
বরিশাল নগরীর বিমান বন্দর থানাধীন রায়পাশা এলাকায় জমি দখল, হামলা, প্রাণনাশের হুমকি এবং নির্মাণসামগ্রী লুটপাটের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলাকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মামলার অন্যতম অভিযুক্ত ব্যক্তি বর্তমানে মুলাদী উপজেলার ইউএনও কার্যালয়ে সরকারি চাকরিতে কর্মরত থাকায় বিষয়টি জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
মামলার নথিপত্র সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বাদীর মালিকানাধীন সম্পত্তি নিয়ে বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল। আদালতে দাখিলকৃত অভিযোগে বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধভাবে বাদীর সম্পত্তিতে প্রবেশ করে নির্মাণকাজে ব্যবহৃত বিপুল পরিমাণ ইট, রড ও সিমেন্ট লুট করে নিয়ে যায়। বাধা দিতে গেলে বাদীকে মারধর করা হয় এবং হত্যার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, সরকারি চাকরিজীবীদের কাছ থেকে সাধারণ মানুষ আইন মেনে চলা, ন্যায়-নীতি ও দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশা করে। সেই অবস্থানে থেকে যদি কোনো সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে জমি দখল, ভয়ভীতি প্রদর্শন বা সহিংস কর্মকাণ্ডের মতো গুরুতর অভিযোগ ওঠে, তবে তা জনসাধারণের মধ্যে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
এলাকাবাসীর মতে, সরকারি চাকরিতে থেকে জনগণের সেবা করার দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি একজন কর্মচারীর ব্যক্তিগত জীবনেও আইন ও নৈতিকতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা উচিত। তাই অভিযোগের বিষয়গুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
মামলার বাদী অভিযোগ করেন, অভিযুক্তরা তাদের প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাকে হয়রানি করে আসছিল। ঘটনার পর থানায় অভিযোগ জানাতে গেলেও তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিকার না পাওয়ায় তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন। মামলায় একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীর কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয়দের অভিমত, অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত, আর অভিযোগ মিথ্যা হলে সেটিও তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। তারা মনে করেন, আইনের চোখে সকল নাগরিক সমান এবং সরকারি পদমর্যাদা কোনোভাবেই আইনের ঊর্ধ্বে নয়।
বর্তমানে বিষয়টি আদালতের বিচারাধীন থাকায় সংশ্লিষ্ট মহল আদালতের রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে। তবে সরকারি চাকরিজীবীর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ ওঠায় ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।