
মোঃএমদাদুল কাসেম সেন্টু, উজিরপুর।।
বরিশালের উজিরপুর উপজেলায় উজিরপুর পৌর সভার ৫ নং ওয়ার্ডের জমির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের মধ্যে নওমুসলিম হওয়ার পর মারধর ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন নুরুজ্জামান খান। এমনকি প্রাণনাশের হুমকি পাওয়ার অভিযোগ তুলে নিজেদের নিরাপত্তা ও সম্পত্তির অধিকার রক্ষায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করে তাঁরা এসব অভিযোগ করেন। জমি নিয়ে অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলনে নুরুজ্জামান খান বলেন, বাপ-দাদার সম্পত্তির মালিকানা নিয়ে মন্দিরের সভাপতি বরুণ মিত্রের সঙ্গে তাঁদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এ নিয়ে আদালতে মামলা বিচারাধীন। বিরোধপূর্ণ ৮১ শতাংশ জমি তাঁদের দাদার সম্পত্তি বলে দাবি করেন তিনি।
নুরুজ্জামানের অভিযোগ, তাঁর বাবা নওমুসলিম হওয়ার পর থেকে তাঁকে মারধর করা হচ্ছে। পাশাপাশি তাঁকেও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এ কারণে তাঁরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তিনি আরও দাবি করেন, ১৭ শতাংশ জমি ভিপি সম্পত্তি হিসেবে মন্দিরের নামে রয়েছে, যার সঙ্গে তাঁদের বিরোধপূর্ণ জমির কোনো সম্পর্ক নেই।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উজিরপুর পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত ঐতিহাসিক সার্বজনীন কেন্দ্রীয় কীর্তন আঙ্গিনা ও শ্রীগুরু মন্দিরে প্রায় ৪৫ বছর ধরে স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করে আসছেন। গত ৮ অক্টোবর মূল ফটকের নামফলকে সেখানে ‘খানবাড়ী’ লেখা একটি নামফলক স্থাপন করা হয়। অন্যদিকে, মন্দিরের সভাপতি বরুণ মিত্র বলেন, ‘আমি থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে আশা করছি।’
এ বিষয়ে উজিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রকিবুল ইসলাম বলেন, ‘নুরুল ইসলাম খানরা ওই সম্পত্তি দখলে আছেন। এ নিয়ে আদালতে মামলা চলমান। আদালত যে রায় দেবেন, তার ওপরই বিষয়টি নির্ভর করবে। নুরুজ্জামান খানকে হুমকি দেওয়ার বিষয়ে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ ও মন্দিরের নামফলক পরিবর্তনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছে। অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, জমির মালিকানা-সংক্রান্ত বিরোধের আইনগত নিষ্পত্তি এবং নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন নুরুল ইসলাম খান ও তাঁর ছেলে।