
কাউখালীর গ্রামীণ অর্থনীতিতে ধানের পর সুপারি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৃষিপণ্য। উপজেলার প্রায় প্রতিটি বাড়ির আঙিনা ও আশপাশে রয়েছে সুপারি গাছ। পরিবারের দৈনন্দিন খরচ, সন্তানদের পড়াশোনা, চিকিৎসা ও বিভিন্ন জরুরি প্রয়োজন মেটাতে সুপারি বিক্রির অর্থের ওপর নির্ভর করে অনেক পরিবার। ফলে সুপারি এ অঞ্চলের মানুষের জীবিকা ও আর্থিক সচ্ছলতার অন্যতম উৎস হয়ে উঠেছে।
উপজেলা সদরে দক্ষিণ বাজারে প্রতি সপ্তাহের শুক্রবার ও সোমবার বসে সুপারির বড় হাট। মৌসুমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ব্যবসায়ীরা সুপারি কিনতে এখানে আসেন। স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি এসব সুপারি দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়। কিছু সুপারি বিদেশেও রপ্তানি হয়। সাধারণত ফাল্গুন থেকে আষাঢ় মাস পর্যন্ত শুকনো সুপারির বেচাকেনা বেশি থাকে। অন্যদিকে শ্রাবণ থেকে অগ্রহায়ণ মাস পর্যন্ত পাকা সুপারির বাজার জমজমাট থাকে।
বর্তমানে বাজারে সুপারির মান ও আকারভেদে প্রতি কুড়ি (২১০টি) বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৬০০ টাকায়। ভালো মানের ও আকারে বড় সুপারি তুলনামূলক বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। এতে চাষি ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে স্বস্তি দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সুপারি ব্যবসায়ী মুন হোসেন ও মো. মাসুদ জানান, এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় সুপারির ফলন মোটামুটি ভালো হয়েছে। বাজারেও সন্তোষজনক দাম পাওয়া যাচ্ছে। ফলে চাষিদের পাশাপাশি ব্যবসায়ীরাও লাভের আশা করছেন।
উপজেলার ডুমজুরি গ্রামের সুপারি বাগানমালিক মো. মোস্তফা আলম বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার বাগানে ফলন ভালো হয়েছে। বাজারদরও সন্তোষজনক। এ কারণে এবার প্রতিটি সুপারি বাগান তিন থেকে পাঁচ লাখ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
পারসাতুরিয়া গ্রামের সুপারি বাগানমালিক ইউলেট মিয়া বলেন, এ বছর আমার বাগানে সুপারির ফলন বেশ ভালো হয়েছে। দামও ভালো পেয়েছি। প্রতিটি বাগান পাঁচ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করেছি।
উপজেলার সুবিদপুর গ্রামে সুপারি উৎপাদনের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি। এ গ্রামের অনেক পরিবার সুপারি বিক্রি করে সারা বছরের সংসার খরচের বড় একটি অংশ জোগাড় করে। স্থানীয়দের মতে, কাউখালীর সুপারি আকারে বড়, স্বাদে মিষ্টি ও কষ কম হওয়ায় ক্রেতাদের কাছে এর আলাদা চাহিদা রয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে কাউখালীতে প্রায় ৬৮ হেক্টর জমিতে সুপারি চাষ হয়েছে। গত বছর উপজেলায় প্রায় ৩৮০ মেট্রিক টন সুপারি উৎপাদিত হয়েছিল। চলতি মৌসুমেও ভালো ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।
কাউখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সোমা রানী দাস বলেন, কাউখালীর মাটি, আবহাওয়া ও পরিবেশ সুপারি চাষের জন্য বেশ উপযোগী। এ কারণে এখানে সুপারির ফলন ভালো হয়। কৃষকেরা দীর্ঘদিন ধরে অভিজ্ঞতার সঙ্গে সুপারি চাষ করে আসছেন। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকেও মাঠপর্যায়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। সঠিক পরিচর্যা, রোগবালাই দমন এবং আধুনিক কৃষি ব্যবস্থাপনা অনুসরণ করতে পারলে সুপারির উৎপাদন ও গুণগত মান আরও বাড়ানো সম্ভব।