
ফয়সাল রাকিব।।
পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে আয়োজন করা হয়েছে ‘কুয়াকাটা পর্যটন কার্নিভাল-২০২৬’। তবে উৎসবের আমেজ উপভোগ করতে এসে আবাসিক হোটেলের অস্বাভাবিক ভাড়া নিয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন পর্যটকদের একটি অংশ। অভিযোগ উঠেছে, নিয়মিত ৫০০ টাকা ভাড়ার একটি সাধারণ কক্ষ কার্নিভালকে কেন্দ্র করে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাওয়া হয়েছে।
পর্যটকদের অভিযোগ, কার্নিভাল উপলক্ষে কুয়াকাটায় পর্যটকের সমাগম বাড়লেও আবাসন খরচ নিয়ন্ত্রণে না থাকায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ। নিয়মিত ভাড়ার তুলনায় কয়েক গুণ বেশি টাকা চাওয়ায় অনেকেই পছন্দমতো হোটেলে কক্ষ পাননি। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে বাড়তি টাকা দিয়ে কক্ষ ভাড়া নিয়েছেন, আবার কেউ রাত কাটিয়েছেন সৈকতের বেঞ্চে, ফুটপাতে কিংবা বাসের আসনে।
পর্যটকদের ভাষ্য, একটি পর্যটন উৎসবকে কেন্দ্র করে যেখানে সেবার মান বাড়ানো এবং পর্যটকদের স্বস্তি নিশ্চিত করার কথা, সেখানে আবাসন খরচের এমন চাপ তাদের আনন্দ অনেকটাই ম্লান করে দিয়েছে। বিশেষ করে সীমিত বাজেটে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা পর্যটকদের জন্য পরিস্থিতি ছিল আরও কঠিন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, কুয়াকাটাকে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে শুধু উৎসব আয়োজনই যথেষ্ট নয়; পর্যটকদের আবাসন, খাবার ও স্থানীয় পরিবহন খরচেও সহনীয় পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।
কার্নিভাল ঘিরে হোটেল ভাড়া বাড়ানোর অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট হোটেল মালিকদের বক্তব্য এবং প্রশাসনের অবস্থান জানা গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে। পর্যটকদের স্বার্থ রক্ষায় আবাসিক হোটেলের ভাড়া নির্ধারণে স্বচ্ছতা, সেবার মান নিশ্চিত করা এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।
পর্যটননির্ভর কুয়াকাটার সুনাম ধরে রাখতে উৎসবের পাশাপাশি পর্যটকবান্ধব ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।