1. faysal.rakib2020@gmail.com : admin :
  2. thelabpoint2022@gmail.com : Rifat Hossain : Rifat Hossain
দুর্যোগ মোকাবিলা বাঁধ ধসে গেল নির্মাণের দুই মাসে - বাংলার কন্ঠস্বর ।। Banglar Konthosor
শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০০ অপরাহ্ন
নোটিশ :
বিভিন্ন জেলা,উপজেলা-থানা,পৈারসভা,কলেজ পর্যায় সংবাদকর্মী আবশ্যক ।

দুর্যোগ মোকাবিলা বাঁধ ধসে গেল নির্মাণের দুই মাসে

  • প্রকাশিত : শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬
  • ২১ 0 বার সংবাদি দেখেছে

বরগুনা সদর উপজেলার ঢলুয়া ইউনিয়নে ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত বেড়িবাঁধ দুই মাসের মাথায় ধসে পড়েছে। বাঁধের সঙ্গে ভেঙেছে গাইড ওয়ালের একাংশ। নির্মাণে খালের মাটি ব্যবহার, নির্ধারিত দৈর্ঘ্যের চেয়ে কম বাঁধ নির্মাণ এবং পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না রাখায় এটি ধসে গেছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। প্রকল্পের নথিপত্র, স্থানীয় বাসিন্দা, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। নির্মাণ ও তদারকির দায়িত্ব নিয়ে জাগোনারী, ঠিকাদার এবং সরকারি দপ্তরগুলোর পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে প্রকল্পের জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

সূত্র জানায়, উপজেলার ঢলুয়া ইউনিয়নের খাকদোন নদীতীরবর্তী পোটকাখালী আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের সুরক্ষায় ৬৫০ মিটার বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। বাস্তবে ৬২৮ মিটার নির্মাণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তাদের দাবি, দূর থেকে মাটি আনার পরিবর্তে পাশের খাল খনন করে ভেকু দিয়ে মাটি তোলা হয়েছে। এতে ভিত্তি দুর্বল হয়ে বাঁধ ও গাইড ওয়ালের একাংশ খালে ধসে পড়েছে।

বাসিন্দা আল-আমিন বলেন, গাইড ওয়াল ভালোভাবে নির্মাণ করা হলে ধসে পড়ত না। নরম মাটি ব্যবহার করায় বাঁধটি টেকসই হয়নি। মো. নান্নুর অভিযোগ, ঠিকাদারের কাজ তদারকির দায়িত্ব জাগোনারীর থাকলেও তারা তা করেনি।

পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির পানি জমে ঘরবাড়ি তলিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বাসিন্দা নাসিমা। তার ভাষ্য, খালের মুখে বাঁধ দিয়ে মাটি তোলার পর পানি নামার পথ বন্ধ হয়েছে। সেখানে ড্রেন নির্মাণ করা দরকার ছিল।

ঢলুয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মো. মনিরুজ্জামান বাবুল মোল্লা বলেন, বরাদ্দের টাকা দিয়ে এ ধরনের তিনটি বাঁধ নির্মাণ সম্ভব ছিল বলে তিনি মনে করেন। অর্থ ব্যয়ের তদন্ত দাবি করেন তিনি।

অভিযোগ অস্বীকার করে জাগোনারীর প্রধান নির্বাহী হোসেন-আরা হাসি বলেন, কাজটি ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে হয়েছে। টাকা সরাসরি পরিষদে দেওয়া হয়েছে। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বাধীন কমিটিতে এলজিইডি, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাও ছিলেন। তাদের প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিল পরিশোধ করা হয়েছে। প্রকৌশলগত মান যাচাইয়ের দায়িত্ব প্রকৌশলীদের। তার দাবি, কাজের মান ভালো ছিল।

ঠিকাদার মোস্তফা জামান মিল্টন বলেন, নকশায় বাঁধের ঢাল ১:৩-এর পরিবর্তে ১:২ দেওয়ায় বৃষ্টির পানি ঢুকে অংশবিশেষ ধসে গেছে। বর্ষা শেষে মেরামত করা হবে।

প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, তিনি শুধু টেন্ডার প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করেছেন। কাজের মান যাচাই বা পরিদর্শনে যুক্ত ছিলেন না। দায় জাগোনারীর। এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান বলেন, প্রাক্কলন তৈরিতে উপজেলা প্রকৌশলীর দপ্তর যুক্ত থাকলেও বাস্তবায়নে তাদের কেউ ছিলেন না। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল হান্নান প্রধান বলেন, তাদের কারিগরি সহায়তা নেওয়া হয়নি।

ঢলুয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. জিয়া মোল্লার দাবি, কাজ পুরোপুরি জাগোনারী করেছে; পরিষদ শুধু টাকা লেনদেন করেছে। তবে পরিষদের প্রশাসক মো. শাখাওয়াত হোসেন বলেন, সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিল জাগোনারী। পরিষদ শুধু বিল ছাড় করেছে।

২০০৭ সালের সিডরে সারাদেশে ৩ হাজার ৩৬৩ জনের মৃত্যু হয়। জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের রেমালে বাংলাদেশে প্রায় ৪৬ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হন। উপকূলীয় দুর্যোগঝুঁকির মধ্যে নির্মিত পোটকাখালীর বাঁধ দ্রুত ধসে পড়ায় বাসিন্দারা নতুন করে নিরাপত্তাহীনতায় পড়েছেন।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Comments are closed.

‍এই ক্যাটাগরির ‍আরো সংবাদ
Theme Customized By BreakingNews