
ধর্ম ডেস্ক // মিলাদুন্নবী (স.) উপলক্ষে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে মুসলিমরা নানা ধরনের আয়োজন করেন। কোথাও হয় আলোচনা ও সীরাত পাঠ, আবার কোথাও বিশেষ ইবাদতের আয়োজনও করা হয়। তবে রাসুলুল্লাহ (স.)-এর জন্ম উপলক্ষে নির্দিষ্ট কোনো রাতে বিশেষ নামাজ, জিকির বা নির্দিষ্ট আমল করার বিধান ইসলামে রয়েছে কিনা এ নিয়ে অনেকেরই প্রশ্ন রয়েছে।
ইবাদতের ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট সময়, পদ্ধতি বা সংখ্যা নির্ধারণ করতে হলে কোরআন ও নির্ভরযোগ্য সুন্নাহর দলিলকে ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়। রাসুলুল্লাহ (স.)-এর জন্মরাতকে কেন্দ্র করে বিশেষ কোনো নামাজ বা নির্দিষ্ট ইবাদত তিনি করেছেন এমন নির্ভরযোগ্য হাদিসের উল্লেখ পাওয়া যায় না। একইভাবে সাহাবায়ে কেরাম (রা.)-এর সময়েও এ রাতকে কেন্দ্র করে বিশেষ কোনো ইবাদতের প্রচলনের সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায় না। তবে এ বিষয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।
মিলাদুন্নবী উপলক্ষে আয়োজন ও ইবাদতের বিষয়টি নিয়ে ইসলামি আলেমদের মধ্যে ভিন্ন মত রয়েছে। একদল আলেমের মতে, এ রাতের জন্য আলাদাভাবে কোনো বিশেষ নামাজ বা ইবাদত নির্ধারণ করার পক্ষে নির্দিষ্ট শরিয়তি দলিল নেই।
অন্যদিকে কিছু আলেম মনে করেন, রাসুলুল্লাহ (স.)-এর জীবন, চরিত্র ও আদর্শ নিয়ে আলোচনা করা, তার প্রতি দরুদ পাঠ করা এবং সীরাতচর্চার মতো কাজ বৈধ ও সওয়াবের হতে পারে যতক্ষণ এসব আয়োজনে শরিয়তবিরোধী কোনো বিষয় যুক্ত না হয়। তবে এ রাতেও অন্য যেকোনো রাতের মতো নফল নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত, জিকির, দোয়া ও দরুদ পাঠ করা যায়। কিন্তু এগুলোকে মিলাদুন্নবীর রাতের জন্য নির্দিষ্ট বিশেষ আমল হিসেবে নির্ধারণ করা বা নির্দিষ্ট সংখ্যা ও বিশেষ ফজিলত দাবি করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
নবীজির প্রতি ভালোবাসার প্রকৃত প্রকাশ
রাসুলুল্লাহ (স.)-এর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হলো তার সুন্নাহ অনুসরণ করা। কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘বলুন, তোমরা যদি আল্লাহকে ভালোবাসো, তাহলে আমার অনুসরণ করো। আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের পাপ ক্ষমা করবেন।’ (সুরা আলে ইমরান: ৩১)
এ ছাড়া রাসুলুল্লাহ (স.) সোমবার রোজা রাখার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেছেন, ‘এ দিনেই আমি জন্মগ্রহণ করেছি এবং এ দিনেই আমার কাছে ওহি নাজিল হয়েছে।’ (সুনানে আবু দাউদ: ২৪২৬)
এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, রাসুলুল্লাহ (স.) নিজের জন্মের দিনের কথা উল্লেখ করে ওই দিনে রোজা রাখার আমল করেছেন। তাই তার জন্ম ও জীবন স্মরণ করার পাশাপাশি তার শিক্ষা, চরিত্র ও সুন্নাহকে নিজের জীবনে বাস্তবায়ন করাই তার প্রতি ভালোবাসার গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশ।
মিলাদুন্নবীর রাতের জন্য আলাদা কোনো নির্দিষ্ট নামাজ বা বিশেষ ইবাদতের সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায় না। তবে সাধারণ নফল নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত, জিকির, দোয়া ও দরুদ পাঠ করা যায়। পাশাপাশি রাসুলুল্লাহ (স.)-এর জীবন ও আদর্শ নিয়ে আলোচনা এবং সীরাতচর্চাও করা যেতে পারে এ বিষয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। তাই এ ধরনের বিষয়ে কোরআন-সুন্নাহর নির্দেশনা অনুসরণ করার পাশাপাশি ভিন্ন মত পোষণকারীদের প্রতিও পারস্পরিক সম্মান ও সংযম বজায় রাখা জরুরি।