
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে স্থানীয়রা নদীর তীরে বিশাল আকৃতির তিমিটিকে দেখতে পান। খবর পেয়ে বন বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন ও কোস্টগার্ডের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কার্যক্রম শুরু করেন।
স্থানীয়রা জানান, রাতের কোনো এক সময় জোয়ারের স্রোতে বঙ্গোপসাগর থেকে মৃত তিমিটি ভেসে এসে আন্দারমানিক নদীর তীরে আটকে পড়ে। সকালে নদীর তীরে বিশাল আকৃতির একটি বস্তু দেখতে পেয়ে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা কাছে যান। পরে সেখানে একটি মৃত তিমি পড়ে থাকতে দেখেন তারা। খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে উৎসুক মানুষ তিমিটিকে দেখতে নদীর তীরে ভিড় করেন।
পরে বিষয়টি স্থানীয় বন বিভাগ ও প্রশাসনকে জানানো হলে কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে তিমিটির বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কার্যক্রম শুরু করেন।
তিমিটির মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে বরগুনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ জিয়া উদ্দিন বলেন, ‘সাগর ও নদীর পানির বর্তমান পরিবেশ নিয়ে গবেষণা করা প্রয়োজন। পানির যে কোনো স্তরে সমস্যার কারণে তিমিটির মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে বৈজ্ঞানিক গবেষণা প্রয়োজন।’
তিনি বলেন, ‘এ ধরনের গবেষণার জন্য বরগুনা জেলায় কোনো গবেষণা কেন্দ্র নেই। পরিবেশগত বিভিন্ন সমস্যার কারণেও সামুদ্রিক প্রাণীর মৃত্যু হতে পারে।’
তালতলী বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান বলেন, ‘খবর পেয়ে বন বিভাগের সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছেন। বিশাল আকৃতির তিমিটি পচে যাওয়ায় দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। পরিবেশ দূষণ এড়াতে এটিকে মাটিচাপা দেওয়া প্রয়োজন। তবে তীব্র দুর্গন্ধের কারণে এ মুহূর্তে কোনো শ্রমিক তিমিটির কাছে যেতে পারছেন না।’
তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অতীশ সরকার বলেন, ‘খবর পেয়ে বন বিভাগের একটি প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থলে গেছে। কোস্টগার্ডের সদস্যরাও সেখানে রয়েছেন। মৃত তিমিটির বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কার্যক্রম চলছে।’
তিনি বলেন, ‘কালো রঙের বিশাল আকৃতির তিমিটি কোন প্রজাতির, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।