
তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নিহত ইউনুস আলী (২২) উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের লালঘাট গ্রামের পশ্চিমপাড়ার ছমির আলীর ছেলে। পরে দুপুরে তার স্বজনরা ভারত থেকে তার মরদেহ নিয়ে আসেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সীমান্তের একটি প্রভাবশালী ভারতীয় চোরাই কয়লা ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত এলাকার দরিদ্র শ্রমজীবী মানুষকে নানা প্রলোভন দেখিয়ে অবৈধভাবে ভারতে পাঠিয়ে কয়লা নিয়ে আসে। বিশেষ করে কিশোর ও যুবকদের সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া সংলগ্ন ছোট ছোট সুরঙ্গপথ দিয়ে ভারতের কয়লার গুহায় পাঠানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। আজ ভোরে বিজিবির চোখ ফাঁকি দিয়ে ১০ থেকে ১৫ জনের একটি শ্রমিকদল সুরঙ্গপথে ভারতে প্রবেশ করে চোরাই কয়লা সংগ্রহ করতে যায়। কয়লা সংগ্রহ শেষে বের হওয়ার সময় হঠাৎ ইউনুস আলীর ওপর মাটিধসে পড়ে।
এ সময় সঙ্গে থাকা অন্য শ্রমিকরা গুহা থেকে বেরিয়ে ইউনুস আলীর পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানান। পরে স্থানীয় ও পরিবারের সদস্যরা দুপুরে গিয়ে অনেক চেষ্টা চালিয়ে দুপুর ১টার দিকে গুহার ভেতর থেকে ইউনুস আলীর মরদেহ উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসেন।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সুনামগঞ্জ-২৮ ব্যাটালিয়ন কর্তৃপক্ষ জানায়, স্থানীয় কিছু লোক গোপনে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের অভ্যন্তরে গিয়ে কয়লা কোয়ারিতে কাজ করেন। যখন কোন দুর্ঘটনা ঘটে, তখন বিষয়টি জানাজানি হয়। নিহত ইউনুস আলী অবইধভাবে ভারতে অবস্থান করে কয়লা কোয়ারিতে কাজ করছিলেন।
বিজিবির সুনামগঞ্জ-২৮ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক পরিচালক লে. কর্নেল একেএম জাকারিয়া কাদির বলেন, ‘নিহত ইউনুস আলী তাহিরপুর সীমান্তের চারাগাঁও এলাকার বিপরীতে ভারতের ১০ কি.মি. অভ্যন্তরে কলারছড়ায় দীর্ঘদিন যাবৎ অবস্থান করে শ্রমিক হিসেবে কাজ করছিল। আজ সকালে কয়লা কোয়ারীতে কাজ করার সময় মাটিচাপায় তার মৃত্যু হয়। সঙ্গে থাকা লোকজন তার মরদেহ উদ্ধার করে বাংলাদেশে নিয়ে আসে। অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করার দায়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সীমান্ত এলাকায় গোয়েন্দা নজরধারীসহ টহল তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।’
তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহমেদ বলেন, ‘স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর নিয়ে নিহত যুবকের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন করার পর স্বজনদের আবেদন ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।’