
গৌরনদী প্রতিনিধি // বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের গৌরনদী অংশে সড়কের গর্ত সংস্কারে পাথর ও বিটুমিনের পরিবর্তে ব্যবহার করা হচ্ছে ইটের খোয়া ও বালু। কোথাও কোথাও করা হচ্ছে ইটের সলিং। টানা বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে এমন তাৎক্ষণিক সংস্কার করা হলেও এর স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) গৌরনদীর ভুরঘাটা বাসস্ট্যান্ড থেকে উজিরপুর সীমান্ত পর্যন্ত প্রায় ১৯ কিলোমিটার মহাসড়ক ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। বার্থী, টরকী, গৌরনদী, মাহিলাড়া, বাটাজোর, বামরাইল ও সানুহারসহ ব্যস্ত এলাকাগুলোতে সড়কের অবস্থা বেশি নাজুক। সরেজমিনে দেখা যায়, শ্রমিকরা ইট ভেঙে খোয়া তৈরি করে বালুর সঙ্গে মিশিয়ে সড়কের গর্ত ভরাট করছেন। কোথাও আবার শুধু ইটের টুকরো ফেলা হচ্ছে। কয়েকটি স্থানে ইটের সলিংও করা হয়েছে। তবে এসব সংস্কারকাজে পাথর বা বিটুমিনের ব্যবহার দেখা যায়নি। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ভারী যানবাহনের চাপে ইটের খোয়া দ্রুত গুঁড়ো হয়ে ধুলা সৃষ্টি করছে। বৃষ্টির পানিতে ইট সরে গিয়ে কিছুদিনের মধ্যেই আবার একই স্থানে গর্ত তৈরি হচ্ছে। ফলে সড়ক সংস্কারে ব্যয় হলেও স্থায়ী সুফল মিলছে না। মহাসড়কে চলাচলকারী দূরপাল্লার চালকেরা জানান, কোথাও বড় গর্ত, আবার কোথাও সড়ক ঢেউয়ের মতো উঁচু-নিচু হয়ে আছে। এতে ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চালাতে হচ্ছে। পাশাপাশি গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে এবং যাত্রীরাও ভোগান্তিতে পড়ছেন। গৌরনদী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মো. মিজানুর রহমান বলেন, মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে গর্ত ও উঁচু-নিচু অবস্থা রয়েছে। মহাসড়কের বর্ধিত অংশ ব্যবহার না করে থ্রি-হুইলারসহ বিভিন্ন যানবাহন মূল সড়কে চলাচল করায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। বরিশাল সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. শাহিন খান বলেন, ভারী বর্ষণের কারণে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে আপাতত ইটের গুঁড়ো দিয়ে গর্ত ভরাট করা হচ্ছে। এটি প্রাথমিক সংস্কারকাজ। বৃষ্টি কমে গেলে পাথর ও বিটুমিন দিয়ে স্থায়ীভাবে সংস্কার করা হবে। স্থানীয়দের দাবি, সাময়িকভাবে গর্ত ভরাট না করে দ্রুত টেকসই সংস্কার করা হলে মহাসড়কে যান চলাচল আরও নিরাপদ হবে এবং কমবে জনদুর্ভোগ।